জঙ্গিবাদ মোকাবেলার কৌশল খুঁজবে আইপিইউ

0
89
untitled-9_281611ঢাকা: অসমতা ও বিচারহীনতার কারণে দেশে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। শুধু সামরিক কৌশলে এ সমস্যা মোকাবেলা সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় কী ভূমিকা রাখতে পারেন তার কৌশল খোঁজা হবে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে। আজ শনিবার ঢাকায় পাঁচ দিনের এ সম্মেলন শুরু হচ্ছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্মেলনটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংসদীয় ফোরাম আইপিইউর ১৩৬তম সম্মেলনের আগে গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৪৫ জন স্পিকার, ৩৭ জন ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ১৫ শতাধিক প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইপিইউর প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, সম্মেলনে উগ্রবাদ দমনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এর মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সরকারের গৃহীত কৌশলের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা এ নিয়ে কীভাবে কাজ করতে পারেন; সেই কৌশল নির্ধারণে আইপিউ নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা হবে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সরকারগুলো তাদের মতো কাজ করছে। সংসদ সরকারের সম্প্রসারিত অংশ নয়। সরকারের বাইরেও সংসদের কাজ আছে। সেই বিষয়গুলো নিয়েই আইপিইউ কাজ করবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস নিয়ে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে এবারের সম্মেলনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের এমপিদের ওপর। তারা এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনমত তৈরির সুযোগ নিতে পারেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সম্মেলনের এই আয়োজনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহতকরণ, সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি চর্চার ক্ষেত্রে আইপিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংসদের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেবে। স্পিকার জানান, সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করবেন।

সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে ঢাকা পেঁৗছতে শুরু করেছেন অতিথিরা। গতকাল সকাল পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন অতিথি ঢাকায় পেঁৗছেছেন। অতিথিদের অভ্যর্থনা ও সাবলীল যাতায়াতে সহায়তা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এ ছাড়া সম্মেলন ঘিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন ও বহির্গমন হলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্রিন আইপিইউ অ্যাসেম্বলি :এবারই প্রথম আইপিইউ ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’র আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ৩ কিংবা ৪ এপ্রিল কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করে সে অনুযায়ী ‘কার্বন নিউট্রাল’ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মেলনে যত প্রতিনিধি আসছেন, তারা বিমানযোগে এখানে অবস্থানের কারণে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে; তার একটি হিসাব তৈরি করে তা নিউট্রালাইজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে কাগজের ব্যবহার কমাতে ‘আইপিউ ১৩৬’ নামে একটি অ্যাপও বানানো হয়েছে।

পরীক্ষার্থী যাতায়াতের সময় ভিআইপি নয় : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ৩ ও ৪ এপ্রিল সম্মেলনে আগত ভিআইপিদের যাতায়াতের সময়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরে অনেক স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের চলাচলে যাতে সমস্যা না হয় সেই বিবেচনায় ওই দু’দিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কোনো ভিআইপি চলাচল হবে না।

আইপিইউ টেলিভিশন উদ্বোধন :সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আমরা কিছু দৃষ্টান্ত রাখতে চাই। এবারই প্রথম আইপিইউর পক্ষ থেকে ওয়েব টেলিভিশন চালু করা হবে। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধনের পর সবাই ইন্টারনেটে তা দেখতে পারবেন।

আলোচ্যসূচি :আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও সম্মেলনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচটি প্রস্তুতি সভা হয়েছে। আজ শনিবার আরও তিনটি সভা ও ফোরাম অব উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে আলোচনার জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলো ধরে চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি তৈরির জন্যই প্রস্তুতি সভা হচ্ছে।

আগামীকাল রোববার সকাল থেকে সম্মেলনের মূল আলোচনাপর্ব শুরু হবে বাংলার মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য। প্রথম দিনে গভর্নিং কাউন্সিল, জাতিসংঘ বিষয়ক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি, স্থিতিশীল উন্নয়নবিষয়ক স্থায়ী কমিটি এবং ফোরাম অব ইয়ং পার্লামেন্টারিয়ানসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বৈশ্বিক অসমতা’ বিষয়েও বিতর্ক শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here