জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন :প্রধানমন্ত্রী

0
76
untitled-7_283261ঢাকা: সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, এখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। যেখানেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেখানেই বাধা দেবেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। কেউ যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে না জড়ায়, ছেলেমেয়েরা যেন এগুলো থেকে দূরে থাকে_ সেই পদক্ষেপও নেবেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, বাংলাদেশ তার পাশে আছে, থাকবে। আমরা একযোগে কাজ করব। যেন কেউ ইসলামের মর্যাদাহানি করতে না পারে, ইসলামকে কলুষিত করতে না পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের সঙ্গেও বাংলাদেশ সব সময় আছে, থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জঙ্গিবাদে জড়িতরা সৎপথে ফিরে এলে তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই। ওই জঙ্গিবাদটাই তাদের ধর্ম। কেননা তারা ভুল পথে যাচ্ছে। যারা ইসলামকে হেয় করতে চায়, তাদের সেই ভুল পথ থেকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা জঙ্গিবাদে চলে গেছে, তারা যদি আত্মসমর্পণ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চায়, তাহলে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কোনোভাবেই হেয় করতে দেব না। এ জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার

দরকার আমরা তা নেব। ইতিমধ্যে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করেছে। কয়েকজন জীবনও দিয়েছে অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে। যারা ওলামা আছেন, তারা আরও দৃঢ়ভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। কারণ শান্তির ধর্ম ইসলামকে কেউ হেয় করবে, ছোট করবে_ এটা আমরা সহ্য করতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগে ওলামা-মাশায়েখ মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল

হারামের ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম এবং রাসূল (সা.) প্রতিষ্ঠিত মদিনার মসজিদে নববির খতিব ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহম্মদ আল কাসিম। তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এর বিরুদ্ধে ইসলামের বাণী ও সৌদি সরকারের কঠোর অবস্থানও তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসাও করেন।

মহাসম্মেলনে যোগ দেওয়া আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই বলে পবিত্র মক্কা শরিফ ও মসজিদে নববির দুই খতিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবার কাছে পেঁৗছে দেবেন। নিজেদের গ্রামে গ্রামে তাদের বক্তব্যে আসা পবিত্র কোরআনের বাণীও পেঁৗছে দিতে হবে। দুই খতিবের এই বক্তব্য সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে, সুদৃঢ় করবে। সরকারের কাজ আরও সহজ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব ও পবিত্র ধর্ম। ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা আসলে ইসলাম ধর্মেরই ক্ষতি করছে, ইসলামকে হেয় করছে। তারা মানুষের জীবনযাত্রা চালানোই মুশকিল করে দিচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা যারা এসেছেন তাদের কাছে আহ্বান থাকবে, ইসলামের প্রকৃত বাণী মানুষের কাছে পেঁৗছে দেবেন। যাতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারা যেন আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মের ক্ষতি না করে। এই মূল বাণীটা তাদের কাছে পেঁৗছে দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে অপপ্রচার করা হয়েছিল যে, এই দল ক্ষমতায় এলে না-কি দেশে ইসলামই থাকবে না। এ ধরনের অপপ্রচার অনেকেই করেছে এক সময়। বিশেষ করে ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এ দেশে আমরা দেখেছি, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা হয়েছে। ধর্মের প্রচারে কোনো কাজই হয়নি। এ প্রসঙ্গে ইসলামের প্রসার ও কল্যাণে বঙ্গবন্ধু সরকারসহ তার নেতৃত্বাধীন তিন মেয়াদের সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সব সময় সৌদি আরবের সঙ্গে থাকবে_ এমন আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এখন আর আমাদের একার সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। জঙ্গিবাদ দমনে সৌদি বাদশাহ উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্বে যারা শান্তিতে বিশ্বাস করে তাদের নিয়ে এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই, সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সব সময় তার পাশে থাকবে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক মজবুত অবস্থানে রয়েছে।

মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক ও ওলামায়ে-কেরাম, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে এক হয়ে পবিত্র ধর্ম ইসলাম যে শান্তির বাণী শিক্ষা দেয়, এই কথাটা প্রচার করবেন। সেই সঙ্গে কার কার সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে, সেই খবর নেবেন। কীভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা যায়, সেই পদক্ষেপটাও নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মে লেখা আছে, মুসলমানরা ভাই ভাইয়ের মতো বসবাস করবে। কিন্তু এটা কেমন কথা একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমানকে বোমা দিয়ে মেরে জান্নাতের পথে চলে যাবে! পবিত্র কোরআনে লেখা আছে, নবীজীও বলেছেন, নিরীহ মানুষকে যদি হত্যা করা হয়, একজন মুসলমান যদি আরেকজন নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করে তাহলে সে কখনও জান্নাতে যেতে পারে না। জাহান্নামের আগুনে পুড়ে মরতে হয় তাকে। আশা করি, এই কথাগুলো দেশে আরও প্রচার করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কোনো একটা মহল থেকে আমাদের পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করার জন্য চক্রান্ত হচ্ছে। যদি এই প্রশ্ন করি, এই যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং যুদ্ধ লেগে থাকলে কারা লাভবান হয়? যারা অস্ত্র তৈরি করে, অস্ত্র বিক্রি করে তারাই আসলে লাভবান হয়। কিন্তু তাতে ক্ষতিটা হয় কাদের? মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করছে। মুসলমানদের রক্তে আজকে অন্যরা লাভবান হচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে মুসলমানরা আছেন। এসব ঘটনার জন্য তাদের হেয় হতে হচ্ছে, তাদের জীবন আতঙ্কজনক হয়ে গেছে কেবল এই কারণে। ইসলাম ধর্মের সঙ্গে আজ জঙ্গিবাদ শব্দটা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি যখনই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলামের সঙ্গে জঙ্গিবাদ শব্দটা শুনি সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করি। তাদের স্পষ্টভাবে বলে দিই, কয়েকটা মানুষের জন্য আমাদের ধর্মপ্রাণ মানুষকে এভাবে হেয় করা যাবে না।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে মহাসম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here