ছয় মহীয়সীর নামে নতুন উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ‘নারী শিক্ষার স্বপ্নভূমি’

0
114

ঢাকা: মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াহেদুজ্জামান সমকালকে বলেন, দেশে বেশ কয়েকজন মহীয়সী নারী রয়েছেন, তারা নারীর অগ্রযাত্রায় কাজ করেছেন। নারীর উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রে তাদের অবদান চোখে পড়ার মতো। সেই অবদান তুলে ধরে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। এতে শুধু নারী শিক্ষার উন্নয়ন নয়, নারী শিক্ষার্থীদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলা যাবে।

প্রকল্প সম্পর্কে কামরুন্নাহার বলেন, প্রকল্পটি নারী শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর যেসব গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট রয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারলে বাস্তবায়ন সফল হবে। মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নিজেকে রক্ষা করতে নারীদের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে দক্ষ কারাতে প্রশিক্ষক দিয়ে কারাতেও শেখানো হবে।

শেখানো হবে কারাতে :প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে রয়েছেন মাউশির উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) খুরশীদ আলম, ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্বে রয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন্নাহার এবং ফোকাল পয়েন্ট সহায়তাকারী হিসেবে আছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. মুকিম মিয়া।

জানা যায়, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র করা হবে সেসব প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে পরিদর্শন করা শুরু হয়েছে। পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটিতে কার্যক্রম শুরুর কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি-না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, ফরিদপুরে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা সরকারি কলেজ ও সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন মাউশির কর্মকর্তারা। পর্যায়ক্রমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করে কার্যক্রম শুরুর জন্য চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে।

যা যা করা হবে :প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও মিটিংয়ের জন্য অডিটরিয়াম, খেলাধুলার সামগ্রী এবং কনফারেন্স রুমও তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলোয় নারীবান্ধব শিক্ষা কমপ্লেক্স, অডিটরিয়াম, একাডেমিক ভবন ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া লাইফ স্কিল ট্রেনিং বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের পরামর্শকের সাহায্যে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি, লাইফ স্কিল ট্রেনিংয়ের জন্য দক্ষ মানবশক্তি, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও মহীয়সী নারীদের স্মৃতি সংরক্ষণ কর্নার, ল্যাঙ্গুয়েজ ও আইসিটি ল্যাব, কাউন্সেলিং কর্নার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র, ইনডোর গেমস ও রিক্রিয়েশন রুম, যাতায়াতের সুবিধাসহ গবেষণা কেন্দ্র প্রভৃতি স্থাপন ও নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো- নারী শিক্ষার্থীদের সুস্থ শারীরিক গঠন, মনের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে একজন নারী শিক্ষার্থী যেন তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক, যোগ্য মাতা হিসেবে জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো- মহীয়সী নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়া ও তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ।

‘নারী শিক্ষার স্বপ্নভূমি’:মাউশি থেকে জানা যায়, নতুন এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নারী শিক্ষার স্বপ্নভূমি স্থাপন’। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা পাঠানোর জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় পেলে একনেক থেকে অর্থ পাস হবে। একনেক থেকে বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার পর আগামী বছর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ছয় মহীয়সী নারীর নামে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোকে নারী শিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়া তোলা হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারিত হলেও বাজেট ঠিক করা হয়নি। প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি নারী। এ অবস্থায় নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আবার নারীরা এখনও নিরাপদ নয়। তাই তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান তারা নিজেরাই করতে পারবে। নির্যাতনের শিকার নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সেবা ও আইনি সেবা দিলে সমাজ দীর্ঘমেয়াদে সুফল ভোগ করবে।

বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মকাছোত্রীদের জন্য থাকবে আলাদা প্রশিক্ষণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে নারী শিক্ষার যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে, অন্যদিকে কিশোরীদের মানসিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা হবে। এতে জীবনের অপচয় কমবে।

ছয় মহীয়সী নারী হলেন- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ও সারদা সুন্দরী। তাদের নামে সারাদেশে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ছাত্রীদের

পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয় নারীদের। এ অবস্থা থেকে তাদের মুক্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর যেন কোনো কিশোরী বা তরুণীকে এমন নির্মমতার শিকার না হতে হয়, সেজন্য তাদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বাড়াতে ‘নারী শিক্ষার স্বপ্নভূমি’ নামে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের বরেণ্য ছয় মহীয়সী নারীর নামে অনন্য এই উদ্যোগ। এ প্রকল্পের আওতায় ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটানো হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।