ছয় বছরেও মেলেনি ফেলানী হত্যার বিচার

0
119

15826719_1801993666717784_2567941095907722978_nনিউজ ডেস্ক: ফেলানী হত্যার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের সুবিচার পায়নি তার পরিবার। বিচারের নামে প্রহসন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

নুরুল ইসলাম বিডি ২৪ লাইভকে জানান, বাংলাদেশ সরকার থেকে ফেলানী হত্যা মামলার পক্ষে নিয়োগকৃত আইনজীবী এ্যাড. আব্রাহাম লিংকন তাকে জানিয়েছেন, ভারতের সুপ্রীম কোর্ট মামলার শুনানির যে দিন ধার্য করেছে সেদিন ভারতের ছুটির দিন ছিলো তাই শুনানী হয়নি। তবে শুনানীর জন্য পরবর্তী দিন কবে ধার্য করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি এ আইনজীবী।

এ্যাড. আব্রাহাম লিংকন মামলার বিষয়ে কোন তথ্য তাদেরকে জানান না বলেও অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম।

ছুটির দিনে সুপ্রীম কোর্ট কিভাবে শুনানীর দিন ধার্য করেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাড. আব্রাহাম লিংকন বিডি ২৪ লাইভকে জানান, গত বছরের ০৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রীম কোর্ট মামলার শুনানির দিন ধার্য করে। তবে ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত ছুটির দিন না থাকলেও কোর্ট এসময় ছুটি ঘোষণা করে। তবে কি জন্য ছুটি ঘোষনা করা হয় সে বিষয়ে জানেন না তিনি।

সরকার বা ফেলানীর পরিবারের সাথে কোন প্রকার আর্থিক চুক্তি ছাড়াই শুধুমাত্র ফেলানীর পরিবারকে সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মামলা গ্রহন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেলানীর রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। এ বছরই মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।

মামলার বিষয় নুরুল ইসলাম জানান, প্রথমে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি একটি মামলা দায়ের করে, পরে ‘মাসুম’ নামের ভারতের একটি এনজিও তার স্বাক্ষর নিয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করে। ফলে একই বিষয়ে দুটি মামলা হওয়ায় মামলায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। মামলার স্বভাবিক গতি রোধের জন্য ভারতের এনজিওটি উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় তিনি জানান, বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন ও সু্বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আগে ভারতে তার একটি বড় দোকান ছিলো, কিন্তু ফেলানী হত্যার পর ঐ দোকান আর নিয়ে আসতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন দোকান লুটপাট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারত এ পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণও দেয়নি বলে জানান তিনি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ফেলানী হত্যার সময় পার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিনি ভারতে ছিলেন। সরকার তাদের পরিবারের সকল দায়িত্ব নেবে বলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে। তখন ততকালীন সরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহারা খাতুন তাদের তিন লক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং পরিবারের সকল দায়িত্ব নেন। কিন্তু তার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের আর কোন খোজ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার বলেছিলো আপনারা সুষ্ঠু বিচার পাবেন, কিন্ত ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচার হয়নি।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে বাবার সঙ্গে নিজের দেশ – বাংলাদেশে আসছিল ১৬ বছরের ওই কিশোরী ফেলানি খাতুন । তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল।

কোচবিহার জেলার চৌধুরীহাট সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার পেরুনোর সময় বি এস এফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য অমিয় ঘোষ তাঁর ইনসাস ৫.৫৬ মিলিমিটার বন্দুক থেকে গুলি করেন। এ ঘটনায় অমিয় ঘোষকে প্রধান আসামি করে আরো তিন দালাল মোশারফ হোসেন, খঞ্জু ও বরজুর নামে মামলা করে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

এছাড়া, বি এস এফ নিজেই বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করে মামলা রুজু করে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা আর বি এস এফ আইনের ১৪৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

বিএসএফ এর নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট বা জি এস এফ সি এ মামলায় মি. ঘোষকে নির্দোষ ঘোষনা করে। পরে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে আপিল করা হয়।