ছবি তোলাই অপরাধ, রক্তাক্ত সাংবাদিক (ভিডিও)

0
12

ঢাকা: নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে জিগাতলার উদ্দেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে একদল হেলমেটধারী সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।

রাজধানীর সিটি কলেজের সামনে রোববার (৫ জুলাই) দুপুরের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ফ্রিল্যান্স ফটো জার্নালিস্ট রাহাত করিম ও বার্তাসংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এএম আহাদ। এছাড়া জনকণ্ঠের জাওয়াদ, বণিক বার্তার পলাশ, প্রথম আলোর আহমেদ দীপ্তসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বার্তাসংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক আহাদকে বেধরক পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে একদল যুবক। যাদের দুজনের মাথায় হেলমেট ও একজনের মুখে গামছা বাঁধা। বাকি সাত-আটজনের মুখ খোলা ছিল। উদ্ধারের পর আহাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলা আন্দোলনের সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে এ হামলা চালানো হয়। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা রড, লাঠিসোটা নিয়ে সাংবাদিকদের একটি গ্রুপকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়ার মধ্যেই কয়েকজন ফটোসাংবাদিক ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। পুলিশের সামনে হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি বলে আক্রান্ত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।

এছাড়া কয়েকজন ফটোসাংবাদিক জানান, ছবি তুললেই মারধর করা হচ্ছে, মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে এবং তা পুলিশের উপস্থিতিতেই হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় কে হামলাকারী, কে শিক্ষার্থী আর কে সাংবাদিক তা চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না।

এর আগে গতকাল জিগাতলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা কয়েকটি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও ভাঙচুর করে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে কালশি ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। তখন পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই বাসটি ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এ ছাড়া আহত হয় আরও ১৩ জন শিক্ষার্থী।

নিহত দুজন হলো- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব। ওই ঘটনার পর আন্দোলনে নেমে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি করে শিক্ষার্থীরা।

 

দাবিগুলো হলো- দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে, নৌ-পরিবহনমন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্প্রিড ব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভর সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে- থামিয়ে তাদের নিতে হবে, শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

ভিডিওটি-