চুল সাদা হওয়ার কারণ যা আপনি জানেন না

0
243

why-people-get-white-hair-at-young-age-causes-and-preventionচুল সাদা হয়ে যাওয়া বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ। কিন্তু অকালে চুল সাদা হয়ে যাওয়া অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও হতে পারে। চুলের রঙ মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে। চুলের গোঁড়ায় টিউব আকৃতির হেয়ার ফলিকল থাকে। হেয়ার ফলিকলের মধ্যে মেলানোসাইট থাকে এবং এর মধ্য থেকেই মেলানিন নামক রঞ্জক উৎপন্ন হয় যা চুলের রঙের জন্য দায়ী।

মেলানিন দুই ধরণের হয় – ইউ মেলানিন এবং ফিও মেলানিন। ইউ মেলানিন বাদামী এবং কালো রঞ্জক ধারণ করে। ফিও মেলানিন লাল ও হলুদ রঙের রঞ্জক ধারণ করে। এগুলো বিভিন্ন অনুপাতে মিশেই কালো, বাদামী, লাল বা স্বর্ণকেশী ইত্যাদি রঙের চুল হয়। চুলের বর্ণ নির্ভর করে জিনের উপর। চুলের রঞ্জকের সমন্বয় নির্ধারিত হয় জিনের দ্বারা। বিভিন্ন কারণে চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। চুল সাদা হয়ে যাওয়ার কারণগুলোর বিষয়ে জানবো এই ফিচারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের (H2O2) অতিরিক্ততাই চুল সাদা হওয়ার কারণ। যেকোন বয়সেই আমাদের শরীরের কোষ ও চুলের কোষ কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধির  সময় বাই প্রোডাক্ট হিসেবে H2O2  এবং অন্যান্য ফ্রি র‍্যাডিকেল উৎপন্ন করতে পারে। কিন্তু তরুণ ও স্বাস্থ্যবান মানুষদের ক্ষেত্রে H2O2 খুব দ্রুত ভেঙ্গে যায় এবং অক্ষতিকর হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। কিন্তু বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ভাঙ্গনের হার কমতে থাকে এবং অনেক বেশি পরিমাণে হেয়ার ফলিকলে জমা হতে থাকে। এর ফলে মেলানিনের সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়

আমাদের শরীরের একটি অবিশ্বাস্য সত্য হচ্ছে – প্রতিটি সমস্যারই উত্তর আছে এর মাঝে। তাই হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের প্রভাব কমানোর জন্য শরীর বিভিন্ন ধরণের এনজাইম যেমন- ক্যাটালেজ, এমএসআর এবং গ্লুটাথায়ন পারঅক্সাইডেস উৎপন্ন করে। এছাড়াও আমরা যে অ্যান্টিওক্সিডেন্ট ভিটামিন – ভিটামিন সি, ই ও এ গ্রহণ করি তা ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে আমাদের শরীর ও চুলকে রক্ষা করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে যে, সাদা চুলের মানুষদের H2O2 এর ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে এবং ক্যাটালেজ ও এমএসআর এনজাইমের পরিমাণ খুব কম থাকে। কালো চুলের মানুষদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয় লক্ষ করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ এই এনজাইমগুলোর বিষয়ে এবার জেনে নিই চলুন

ক্যাটালেজ

হেয়ার ফলিকলকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রথম সারিতেই থাকে ক্যাটালেজ এনজাইম। মনে করা হয় যে, ক্যাটালেজের এক অণু প্রতি মিনিটে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ছয় মিলিয়ন অনুকে ভেঙ্গে পানি ও অক্সিজেনে পরিণত করতে পারে। কিন্তু স্ট্রেস, বয়স এবং পুষ্টির ঘাটতি ক্যাটালেজের মাত্রা কমিয়া দেয়। সুখবর হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যে ক্যাটালেজ এনজাইম থাকে যেমন- কাঠ বাদাম, আলু, মিষ্টি আলু, গরুর কলিজা, গম ঘাস, রসুন, পেঁয়াজ, গাজর, মুলা, পাতাকপি, শশা, চেরি ও কলা।

এমএসআর

চুলের রঙ ঠিক রাখার জন্য এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম। এটি সরাসরি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের উপর কাজ করেনা, কিন্তু পারঅক্সাইডের ক্ষতি মেরামতে কাজ করে এই এনজাইম। H2O2  হাইড্রোক্সিল মৌল (ফ্রি র‍্যাডিকেল) উৎপন্ন করে যা টাইরোসিনেজ এনজাইমকে ভেঙ্গে ফেলে। টাইরোসিনেজ মেলানিনের উৎপাদনের প্রধান এনজাইম। তাই এর ভাঙ্গনের ফলে রঞ্জকের সংশ্লেষণ বাঁধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু  MSR  এনজাইম টাইরোসিনেজকে উদ্ধার করতে পারে।

গ্লুটাথায়ন পারঅক্সাইডেস

চুল সাদা হওয়ার প্রক্রিয়াকে উল্টে দিতে সাহায্য করে গ্লুটাথায়ন পারঅক্সাইডেস। এটি ক্যাটালেজের মত শক্তিশালী না হলেও ক্যাটালেজের মতোই  H2O2  কে পানিতে পরিবর্তিত করতে পারে।

এছাড়াও স্মোকিং, স্ট্রেস, অ্যালকোহল সেবন, জাঙ্কফুড খাওয়া, পরিবেশ দূষণ, পুষ্টির ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি, শ্বেতি রোগ ইত্যাদি কারণেও চুল সাদা হয়ে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here