চুক্তির বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ, থাকতে হবে সতর্ক

0
46

ঢাকা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে কীভাবে দ্রুত ফেরত পাঠানো যায় সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সবাই ফেরত না যাওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। থাকতে হবে সতর্ক। আর রাজনীতিকরা বলছেন, নাগরিকত্বসহ সব ধরনের মেৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফেরত নেয়া সম্ভব হলে তবেই চুক্তি সফল হবে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক সম্মতিপত্র সই হওয়ার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরা একথা বলেন।

মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে আসার পর চুক্তি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারব। ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে শুনছি।

তবে কবে শেষ হবে তার কোনো প্রতিশ্রুতি মিয়ানমার দেয়নি। বাংলাদেশ সম্ভবত এ ব্যাপারে একটা সময়সীমা চেয়েছিল। তবে ২ মাসের মধ্যে শুরু করবে বলেছে এটাও ভালো দিক।’

অনুপ চাকমা আরও বলেন, ‘একটা হল বলা, আরেকটা হল বাস্তবায়ন। যেভাবে লাইন ধরে রোহিঙ্গারা এসেছেন, সেভাবে লাইন ধরে ফেরত নেবে না।

অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। যাচাই করবে, কোন গ্রাম থেকে এসেছে এসব। লাখ লাখ লোক এসেছেন। ফলে তাদের ফেরত যাওয়া অনেক সময়সাপেক্ষ।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত এমএকে মাহমুদ বলেছেন, ‘চুক্তি সই হলেও এ ব্যাপারে আমাদের আশাবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। এটা পুরোটাই আইওয়াশ হতে পারে। কিছু লোক ফেরত নিয়ে তা নানা অজুহাতে বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে সৃষ্ট সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক চাপ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের মিয়ানমারের ফঁাদে পা দেয়া ঠিক হবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চুক্তিতে কী আছে সে সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তারপরও বলব, নির্যাতনের কারণে প্রাণ ভয়ে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ভয় কাটবে কিনা, নাগরিক হিসেবে তারা সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরত যেতে পারবেন কিনা, রেখে আসা সম্পত্তিসহ ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা ইত্যাদি প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর চুক্তিতে থাকতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টিতে নিরাপত্তার বিষয়টি থাকতে হবে। এগুলো না থাকলে চুক্তি সফল হবে না।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি আমরা তুলে ধরেছি এবং তাদের কাছ থেকে সমর্থনও পেয়েছি।

আমরা বলেছি, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদের বিনা শর্তে ফেরত নিতে হবে। সেদিক থেকে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, বিশ্বের চাপে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চুক্তি সই করেছে। এখন আমাদের একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা। এ চুক্তি কাজে আসবে কি? জবাবে তিনি বলেন, সফল হবে। তবে কিছু সময় লাগবে। কারণ এটি একটি জটিল সমস্যা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যুগান্তরকে বলেন, সমঝোতা স্মারকে কি আছে না দেখে কিছু বলা যাবে না। এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে- যেন কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। কারণ এর আগেও একবার রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হয়।

কিন্তু তাতে নানা ফাঁক থাকায় তখন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

জাতীয় সমাজতানি্ত্রক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশা করব এ চুক্তির মাধ্যমে বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিশ্চিত হোক।

তারা যে মিয়ানমারের অধিবাসী সে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পাক। চুক্তির বলে এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ফিরে পাক।