চার হিন্দুত্ববাদবিরোধীকে খুনে একই পিস্তল ব্যবহার!

0
69

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ভারতে গত চার বছরে উগ্র হিন্দুত্ববাদবিরোধী চার বিশিষ্ট নাগরিক নিহত হয়েছেন।

তাদের প্রত্যেককেই মোটরসাইকেলে করে আসা খুনিরা গুলি করে হত্যা করেছে। আর এ  হত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে একই মডেলের পিস্তলের গুলি!

নিহত এই চারজন হলেন- এম এম কালবুর্গি, নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে ও গৌরি লংকেশ।

মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ির সামনে সাংবাদিক গৌরিকে মোটরসাইকেলে করে আসা খুনিরা হত্যা করে পালিয়ে যায়।

উগ্র হিন্দুত্বদবিরোধী গৌরি খুন হওয়ার পর এর সঙ্গে আগের তিন হত্যাকাণ্ডের মিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডি ও ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ চারটি খুনের ধরনের মধ্যে সাদৃশ্য ধরা পড়ার কথা বলেন।

তারা বলেন, ঘটনাস্থল আলাদা হলেও তাদের খুন করার ধরন একই রকম। মোটরবাইকে চড়ে আসা খুনিরা সবাইকে গুলি করে খুন করেছে।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে এম এম কালবুর্গি নিহত হন। এর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, তাকে হত্যায় ৭.৬৫ এম এম পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল।

সিআইডি আরও জানতে পারে, এর আগে নিহত দাভোলকর ও পানসারের হত্যাকাণ্ডেও ৭.৬৫ এম এম পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নিহত হন হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজকর্মী এম এম কালবুর্গি।

লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের সদস্য কালবুর্গি মূর্তিপূজা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। কর্নাটকের ধারওয়াড়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে খুন করে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বামপন্থী নেতা গোবিন্দ পানসারে নিহত হন।

তিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরোধিতায় সরব ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর খুনি নথুরাম গডসের কঠোর সমালোচনা করতেন তিনি। এ ছাড়া কোলাপুরে টোল ট্যাক্সেরও বিরোধিতায় আন্দোলনে লিপ্ত ছিলেন।

পানসারের বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে পানসারের গায়ে পাঁচটি গুলি লাগে।  পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।

মহারাষ্ট্রের নরেন্দ্র দাভোলকরকে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট খুন করা হয়। পেশায় চিকিৎসক এ মানুষটি ছিলেন একজন সমাজকর্মী। তিনি কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভৌতিক জাদুর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতেন।

ভারতে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য খুন হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। সম্প্রতি দণ্ডিত হরিয়ানার ধর্ষকগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের কীর্তির খবর প্রকাশ করে ২০০২ সালে প্রাণ হারিয়েছিলেন রামচন্দ্র ছত্রপতি।

নিজের ‘পুরা সচ’ পত্রিকায় ধর্ষকগুরু গুরমিতের বিরুদ্ধে দুই নারী শিষ্যের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিলেন ছত্রপতি।

ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই গত ২৫ আগস্ট গুরমিত সিংয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু সাক্ষাৎকার ছাপার এক মাসের মাথায় ২০০২ সালের ২১ নভেম্বর ছত্রপতি দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here