চলন্ত বাসে গণধর্ষণ: সেই চারজনের ফাঁসি বহাল

0
49

nirvoya_46434_1493981452আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের দিল্লিতে মেডিকেল ছাত্রী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার দোষীর ফাঁসির সাজা বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্ট।

শুক্রবার আসামিদের আবেদন খারিজ করে ফাঁসির সাজাই বহাল রাখেন দেশটির উচ্চ আদালত। খবর আনন্দবাজারের।

প্রায় পাঁচ বছর আগে সঙ্গীর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছরের নির্ভয়া।

গণধর্ষণের পরও চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। এরপর নির্ভয়া ও তার সঙ্গীকে চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা দেয়া হয়। তার সঙ্গী প্রাণে বেঁচে গেলেও ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যান নির্ভয়া।

পুরো ভারতকে শিউরে দেয়া এই মামলায় ২০১৩ সালে চার জনের ফাঁসির সাজা হয়েছিল নিম্ন আদালতে।

পরের বছর দিল্লি হাইকোর্টও একই সাজা বহাল রাখে। এর পর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল দোষীরা।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর সঙ্গীর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ির পথে রওনা দেন ফিজিওথেরাপির ছাত্রী জ্যোতি সিং। দক্ষিণ দিল্লিতে একটি বাসে ওঠেন তারা। সেই বাসে ছিল আরও ছ’জন। বাসচালক রাম সিং আশ্বাস দেয়, নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের নামিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু, বাস চলতে শুরু করলে জ্যোতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যরা। সঙ্গীর সামনেই জ্যোতিকে একে একে ধর্ষণ করে ছ’জন। এতেও থেমে থাকেনি তারা। জ্যোতির শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয়া হয়। টেনে বের করে আনা হয় তার নাড়িভুঁড়ি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু, অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় নির্ভয়াকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানেই হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এই ঘটনার পর দেশ-বিদেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। বিক্ষোভ চলতে থাকে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে। প্রাথমিকভাবে জ্যোতির নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়। নির্ভয়া বা দামিনী নামেই তার উল্লেখ করা হয় সংবাদমাধ্যমে। পরে প্রকাশ্যে আসেন তার মা-বাবা। মেয়ের নাম-পরিচয়ও জানান তারা।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে এক নাবালকও ছিল। ওই নাবালকসহ অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত, রাম সিং, ও মুকেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতে বিচার শুরু হয় তাদের। তবে ঘটনার সময় এক অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছর থেকে মাসখানেকের কম হওয়ায় তাকে জুভেনাইল কোর্টে তোলা হয়। নিম্ন আদালতে মামলা চলাকালীনই ২০১৩-র মার্চে তিহাড় জেলে আত্মহত্যা করে রাম সিং।

অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত, ও মুকেশকে ফাঁসির সাজা শোনায় নিম্ন আদালত। একই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্টও। জুভেনাইল কোর্টে তিন বছরের সাজা মেলে ওই নাবালকের।

গত ২০১৫-তে সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পেয়ে যায় সে। তবে ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত, ও মুকেশ। সেই আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here