ঘরোয়া উপায়ে কমিয়ে আনুন পোড়া ত্বকের যন্ত্রণা

0
218

aloevera_gelঅত্যধিক তাপের কারণে পুড়ে যেতে পারে শরীরের ত্বক যা অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। পোড়ার সমস্যা থেকে দ্রুত নিরাময় লাভ করার জন্য পোড়ার তীব্রতা অনুধাবন করা প্রয়োজন। পোড়ার তীব্রতা ও গভীরতার উপর নির্ভর করে একে শ্রেণীবিভক্ত করা হয় যেমন- ফার্স্ট, সেকেন্ড এবং থার্ড ডিগ্রী বার্ন হয়েছে বলা হয়।

ফার্স্ট ডিগ্রী বার্ন – ত্বক হালকা পুড়ে গেলে ফার্স্ট ডিগ্রী বার্ন হয়েছে বলা হয়। এতে ত্বক লাল হয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া করার অনুভূতি হয়, কিন্তু কোন ফোস্কা পড়েনা।

সেকেন্ড ডিগ্রী বার্ন – এক্ষেত্রে ফোস্কা পড়ে। আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে যায় এবং মধ্যম মানের জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়।

থার্ড ডিগ্রী বার্ন – সবচেয়ে তীব্রভাবে পুড়ে গেলে বলা হয় যে থার্ড ডিগ্রী বার্ন হয়েছে। এ ধরণের পোড়ার ক্ষেত্রে ত্বক ভেদ করে মাংস পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেক সময় পেশী, চর্বি এবং হাড় পর্যন্ত দেখা যায়।

কাপড় আয়রন করার সময় অসাবধানে ত্বক পুড়ে গেলে ফার্স্ট বা সেকেন্ড ডিগ্রী বার্ন হয়েছে বলা হয়। ফুটন্ত পানি বা গরম তেল বা মিষ্টি জাতীয় গরম খাবার দিয়ে পুড়ে গেলে থার্ড ডিগ্রী বার্ন হতে পারে।

যেকোন পোড়ার ক্ষেত্রেই প্রথম কাজটি হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা পানি ঢালা। এর ফলে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমবে এবং ফোস্কা পড়বে না।

থার্ড ডিগ্রী বার্ন এর ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। ফার্স্ট ও সেকেন্ড ডিগ্রী বার্ন এর ক্ষেত্রে ঘরেই নিরাময় করা সম্ভব। প্রথমেই আক্রান্ত স্থান থেকে কাপড় বা গহনা বা অন্য কিছু লেগে থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। তারপর আক্রান্ত স্থানে পানি দিতে থাকুন বা বরফ লাগান। ফোস্কা পড়লে তা কখনোই গেলে বা ফাটিয়ে ফেলবেন না। কারণ এতে সংক্রমণ হয়ে যেতে পারে। ফোস্কাগুলোকে নিয়মিত পরীক্ষা করবেন। যদি এগুলোতে পুঁজ জমে, অনেক ব্যথা করে এবং হলুদ বা সবুজাভ তরল বের হয় তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে যাতে দ্রুত সংক্রমণের নিরাময় করা যায়।

কখনোই পুড়ে যাওয়া স্থানে টুথপেস্ট বা তেল লাগাবেন না এবং পোড়া স্থানটিকে ঢেকে রাখবেন না।

ফার্স্ট ডিগ্রী বার্ন এর ক্ষেত্রে যে ঘরোয়া প্রতিকারগুলো সাহায্য করতে পারে তা হল-

১। আলু

আলু পাতলা করে কেটে নিয়ে পোড়া স্থানের উপর লাগিয়ে রাখুন ৩ মিনিট যাবৎ। দিনে ৩ বার এটি লাগাতে পারেন।

২। মধু

মধু শক্তিশালী অ্যান্টিহিস্টামিন যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। আক্রান্ত স্থানে দিনে কয়েকবার মধু লাগান। কুসুম গরম পানি দিয়ে স্থানটি ধুয়ে নিয়ে পুনরায় মধু লাগান।

৩। ভিটামিন ই ক্যাপসুল

পোড়া নিরাময়ে ভিটামিন ই অনেক কার্যকরী, বিশেষ করে দাগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ই ক্যাপসুলটি ভেঙ্গে ভেতরের তরল আক্রান্ত স্থানে ছড়িয়ে দিন। দিনে দুইবার এভাবে লাগান।

৪। অ্যালোভেরা

এই উদ্ভিদের জেল পোড়া নিরাময়ে চমৎকারভাবে কাজ করে। জ্বালাপোড়ার অনুভূতিকে শান্ত করে এবং দ্রুত নিরাময় করে। পোড়া স্থানে দিনে ৩ বার এটি লাগান এবং উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে পোড়া অংশে যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

সূত্র: স্টেপ টু হেলথ