গোপন রুশ সম্পর্ক নিয়ে এবার গ্যাঁড়াকলে মার্কিন অ্যাটর্নি

0
188

us_41034_1488495189আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ যেন শেষই হচ্ছে না। এবার অভিযোগের তীর মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের বিরুদ্ধে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। এ তথ্য তিনি সিনেট শুনানিতে গোপন রাখেন।

মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সেশন্সের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ তথ্য সামনে আসার পরপরই সেশন্সের পদত্যাগ দাবি করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

তবে সেশন্স এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রুশ সংযোগের এমন অভিযোগে কিছুদিন আগে ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানায়, গত বছর অ্যালাবামার সিনেটর ও সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য হিসেবে সেশন্স যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অন্তত দু’বার বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ নিশ্চিত করতে তিনি সিনেট শুনানিতে এ তথ্য গোপন করেন।

কংগ্রেসে ডেমোক্রেটিক দলীয় নেতা ন্যান্সি পেলোসি রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগে সেশন্সের পদত্যাগ দাবি করেছেন। দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য এফবিআইয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সেশন্স। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে আমি কোনো কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি। কোনো আলোচনায় অংশ নিইনি। এ পর্যায়ে এসে অভিযোগ ওঠার ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’

এদিকে এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তে সম্মত হয়েছে দেশটির কংগ্রেস। মার্কিন কংগ্রেসের পারমানেন্ট সিলেক্ট কমিটি অন ইনটেলিজেন্স এ বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার এক বিবৃতিতে তদন্তের ঘোষণা দেন কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান নেতা ডেভিন নুনেস এবং ডেমোক্রেট দলীয় কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম বি স্কিফ। এর পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল সেশন্সের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠল। এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে ওয়াশিংটনের রুশ দূতাবাস।

এর আগে রুশ সংশ্লিষ্টতা ও রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফোনালাপের তথ্য ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগ করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা ফ্লিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই ফ্লিন ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সখ্যতা আছে। ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন ও ক্রেমলিনের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে পুতিনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা আছে বলে জানা যায়।

নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদের শেষ সময়ে তদন্ত করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। যৌথ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পছন্দের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তা করেছে ক্রেমলিন।