গার্ডিয়ানের সাক্ষাৎকারে যা বললেন ফরহাদ মজহার

0
82

farhad-mazhar_52039_1499956691নিউজ ডেস্ক: কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেছেন, সকালে হাঁটতে বের হলে তিনজন লোক এসে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি শহরে ফেলে যায়।

অপহরণকারীরা তার সঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে। হাঁটু দিয়ে তারা তাকে গাড়ির মেঝের সঙ্গে চেপে ধরে।

রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্ধার হওয়ার পর ফরহাদ মজহার ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা প্রকাশ করতে তিনি ভীত নন। তবে, তিনি এখনও ‘তীব্র মানসিক ঘোরে’ রয়েছেন এবং তা থেকে সেরে উঠতে সময় প্রয়োজন বলেও জানান ফরহাদ মজহার।

গার্ডিয়ান জানায়, ফরহাদ মজহার নিখোঁজের সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশে অপহরণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া প্রথম কোনো ব্যক্তি গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দিলেন।

ফরহাদ মজহার জানান, গত সপ্তাহে ভোর ৫টার দিকে তার বাসার কাছে সড়ক থেকে কারা তাকে ‘অপহরণ’ করেন তা তিনি জানেন না। ওইদিন সকালে তার চোখে সমস্যা ছিল। তাই ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

ফরহাদ মজহার আরও জানান, অল্প সময়ের জন্য তিনি তার পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, আমি ফিসফিস করে বলেছিলাম, তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে হত্যা করবে।

ফরহাদ মজহার গার্ডিয়ানকে আরও বলেন, ছেড়ে দিতে তিনি অপহরণকারীদের মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করেন। পরে তারা তাকে মোবাইল ফোন দেয় এবং তিনি স্ত্রী সঙ্গে এ বিষয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন।

কয়েক ঘণ্টা বাসে ভ্রমণ করতে হয়। তারা আমাকে নির্যাতন করেছে, কিছু সময় খারাপ কথা বলেছে। তারা তাকে চড়ও মারে বলে জানা ফরহাদ মজহার।

গত ৩ জুলাই ভোর সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর আদাবর রিং রোড নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহৃত হওয়ার দাবি করেন ফরহাদ মজহার।

তার পরিবারও একই দাবি করে থানায় জিডি করে। পরে রাতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার পথে তাকে যশোরের নওয়াপাড়ায় হানিফ বাস থেকে উদ্ধারের দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকায় আনার পর আদালতে নেওয়া হলে ফরহাদ মজহার ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here