গণতন্ত্রহীনতা অপশাসন ও দুর্নীতিকে বিস্তৃত করে: রাষ্ট্রপতি

0
4

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। গণতন্ত্র উন্নয়কে বেগবান করে। আর গণতন্ত্রহীনতা অপশাসন ও দুর্নীতিকে বিস্তৃত করে। এতে সামাজিক শৃংখলা বিনষ্ট হয়।

চার দিনের সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ এসে তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বিকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট মডেল হাইস্কুলের হীরকজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্রের চর্চা বাড়াতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি জনগণের দায়িত্বও কোনো অংশে কম নয়। কারণ জনগণই তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। তাই নির্বাচনের যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী যে কোনো চক্রান্ত মোকাবেলায় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে জঙ্গি হামলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, শোলাকিয়ার ঈদের জামাত কিশোরগঞ্জের গর্ব। সারা দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা এ জামাতে অংশ নেন। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ও জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।

আবদুল হামিদ বলেন, কোনো জঙ্গিবাদী বা সন্ত্রাসী যাতে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক মত-পথ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে পারব, ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করব, ইনশাল্লাহ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, তা সবাইকে ভাবতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার এরই মধ্যে রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছে। রূপকল্প বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাতে হবে। উন্নয়নের সুফল যাতে ধর্ম-বর্ণ ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ভোগ করতে পারে- তা নিশ্চিত করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটে, শুরু হয় অর্থনৈতিক মুক্তির যুদ্ধ। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। কিন্তু যুদ্ধ থেমে নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম চলছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তবতা।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত সচিব শফিকুল আলম মেহেদী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন, পৌর মেয়র শওকত ওসমান শুক্কুর আলী, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here