গজনফর আলী চৌধুরী: একজন অসাধারন মানুষের জীবন থেকে নেয়া (৫)

0
320

gaznafof_8538রতন তালুকদার: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে একজন তরুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গজনফর আলী চৌধুরী দৃঢ় শক্তি ও মনোবালের মানুষ। নীতি ও আদর্শকে অজন্ম তিনি লালন করেছেন। কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও ন্যাপ কমিউনিষ্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ মুক্তিযোদ্ধ বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধে আবদান প্রসঙ্গে কথা বলেন। একাত্তেরের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সারা দেশবাসী পাক হানাদার বাহিনীর বিরুধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে বাংলাদেশে বাম রাজনীতির পুরোধা ন্যাপ কমিউনিষ্ট পার্টি ও ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন অভূতপূর্ব সাফল্য ত্যাগ ও তিতিক্ষার কথা মনে থাকবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাম রাজনীতির নেতৃত্ব একটি সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার ফলশ্রুতিতেই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে বাম রাজনীতির দ্বারা খোলে যায়।

একাত্তর থেকে পচাক্তর পর্যন্ত বাম রাজনীতি অর্থ্যৎ ন্যাপ কমিউনিটি পার্টি সহ তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দেশ গড়ার পাশাপাশি বাংলদেশে একটি অসাম্প্রদায়িক সুশীল সুন্দর সমাজ গড়ার কারিগর হয়ে দাঁড়ায়। বলার অপেক্ষা রাখে না তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারও বাম রাজনীতির গনমুখী চেতনাকে কাজে লাগায়। তিনি উল্লেখ করেন ১৯৭৩ সালে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ডাকসু, চাকসু, রাকসু, সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুুলে ছাত্র ইউনিয়নের এক জাগরণ ঘটে। এই গণ ছাত্র জাগরণকে বাংলাদেশে বাম রাজনীতির উন্মেষ বলা যায়।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে তৎকালনি বঙ্গবন্ধু সরকার কে সমাতন্ত্রের ছায়াতলে এসে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যায় নিয়েই বাম রাজনিিতর দলগুলি বঙ্গবন্ধুকে অর্থ্যাৎ বুর্জেয়া দল আওয়ামী লীগকে সমর্থক করে।

গজফর আলী চৌধুরী তার রাজনৈতকি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকাংশে আবেগ প্রবণ হয়ে উঠে। রক্তের শিরায় শিরায় যার রাজনীতির প্রবাহ ও বাম রাজনীতির লাল পতাকা যার কাঁধে সে আজকের বাংলাদেশের ছবি দেখে শুধু হতাসই নয় বহুলাংশে বিমর্ষ। গজফর আলী চৌধুরীর রাজনীতির হাতেখড়ি সেই হাকালকি হাওরের পাড়ে তার প্রিয় শহর মৌলবীবাজার থেকে।

দুরন্ত এই ছেলে যখন চা- বাগানের বাঁকে বাঁকে মায়াবী পাহাড়ের সবুজ হাতছানিতে বা মনু নদীর নির্মল জলের মতো বহমান সেই সময় এই টগবগে যুবক ঝপিয়ে পড়ে দেশ মাতৃকার টানে একাত্তেরের অগ্নিঝরা দিনের সেই ভয়াবহ মুহুর্তে। গজনফর আলী চৌধুরী ত্রিপুরার আগরতলা দিয়ে কৈলেশ্বরে তার যাত্রা করে। এক দুর্গম পথ অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধের আন্দেলনে অংশ নেন, হলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারপর টানা ন’মাসের সংগ্রাম। কোম্পানী কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে এক গৌরবময় ইতিহাস গড়েন তিনি। এভাবেই একাত্তরের সংগ্রামে নিজকে তিনি আবিস্কার করেন একজন রাজনৈতিক সচেতন অন্য রকম মানুষ হিসেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here