গজনফর আলী চৌধুরী: একজন অসাধারন মানুষের জীবন থেকে নেয়া (১০)

0
331

gaznafof_8538-1-300x207রতন ভালুকদার: প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা। সে অনেক অনেক দিন। ইষ্ট রিভার দিয়ে অনেক জাল গাড়িয়ে মিশেছে আটলান্টিকের মোহনায়। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন ছেড়ে পশ্চিমের এই ঝকঝকে সাজানো বাগানে গজনফর আলী চৌধুরী কতটুকু নিজকে মানিয়ে নেবে এমন প্রশ্নই করি।

তিনি কথায় কথায় আমাকে জানান, দেশচাঢ়ার গল্প তত সুখের নয়, স্বেচ্ছায় দেশত্যাগী হলেও এর নেপথ্যে অনেক ছবি, অনেক কাহিনী। সুবর্ণের সন্ধানে যে দেশ ছাড়া হয়নি, তিনি একথাও বুঝিয়ে দিলেন।

গজনফর আলী চৌধুরী স্ত্রী হাসনা বেগমও একজন রাজনীতিবিদ ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য। দ’জনের জীবনে একটি আশ্চর্য্যজনক মিল সেই রাজনৈতিক জীবন কিন্তু অমিল, দু’জনে দুধারার রাজনীতিতে। একজন বাম রাজনিিতর ধারক বাহক, অন্যজন প্রাচলিত জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ। হাসনা বেগম পৃথিবী বিখ্যাত বেহায়া হুসাই মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন। জননেত্রী হাসনা বেগম সংসদে রেছেছেন গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা। সাংসদ ও গজনফর আলী চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে ভাবীর সাথে আমার ছিলো একটি সুন্দর সম্পর্ক।

গজনফর আলী চৌধুরীর ন্যায় ভাবীও আমার একজন ঘনিষ্ট বন্ধু। সাপ্তাহিক সংবাদে ভাবীর সাথে কাজ ও আড্ডা এখনো মনে আছে স্মৃতিতে। ভাবীকে কাছে থেকে না দেখলে হয়ত বিশ^াস করতাম না, এই ভদ্রমলিা সত্যিই একজন সজ্জন ও খোলা মনের মানুষ। ভাবীকে নিয়ে আরও পরে লিখা যাবে। নিউইয়র্কে গজনফর আলী চৌধুরীর জীবন অনেক বর্ণম। জীবন ও জীবিকার তাগিতে এই শহরে গতানুগতিক চাকুরী দিয়ে শুরু হলেও শেষ টানেন একন সাবেক সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে। ৯৮ সালে নিউইয়র্ক থেকে প্রাকাশিত সাপ্তাহিক সংবাদ প্রকাশনা বন্ধ হলে গজনফর আলী চৌধুরী আর কোন মর্কস্থলের তালাস করেনি। চলে গেলে আজম্ম প্রবাস জীবন ছেড়ে সেই জম্মভূমী বাংলাদেশের জন্মের মাটি সেই মৌলবীবাজারে।

নিউইয়র্কে আশির দশকে একটি বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ে উঠার রাস্তা খুজছে, তখন এই কমিউনিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে হাতে গোনা ক’জন উৎসাহী ব্যক্তির মাঝে গজফর আলী চৌধুরী অন্যতম। বাংলাদেশীদের অভিবাসী বণিজ্যিক এই শহর নিউইয়র্ক ঘিরে। এই নিউইয়র্ক গড়ে উঠে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রাণ। দেশের বাইরে লন্ডনের পর প্রাশ্চাত্যের নিউইয়র্কেই দ্বিতীয় রাজধানী। তারপর নব্বই দশকে এই মার্কিন মুল্লুকে হিড়িক পড়ে আমদের। কেউ লটারী জিতে, কেউ চোরাই পথে কেউ সাগর নদী নালা পাড়ি দিয়ে পরবাসী হয়। নব্বই দশক থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আরেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি নিয়েই পরবর্তীতে পড়ে উছেছে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য, পত্র পত্রিকা, সংগঠন সাহিত্যে সাংস্কৃতির নতুন অধ্যায়। গজনফর আলী চৌধুরী এসব থেকে কখনোই দুলে থাকতে পারেনি। (চলবে)