খেতাব জিতে কাঁদলেন বিজেন্দ্র

0
239

imageস্পোর্টস ডেস্ক: সাতে সাত! পেশাদার বক্সিংয়ে টানা জয় ধরে রেখেই শনিবার নতুন কীর্তি গড়লেন বিজেন্দ্র সিংহ। অস্ট্রেলিয়ার কেরি হোপ’কে দশ রাউন্ডের লড়াইয়ে হারিয়ে ৩০ বছরের ভারতীয় বক্সার এশিয়া প্যাসিফিক সুপার মিডলওয়েট খেতাবও জিতে নিলেন। দেশের মাটিতে প্রথমবার লড়তে নেমে অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিজেন্দ্র। ম্যাচের পর রিংয়ের মধ্যে কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেছেন, ‘এই জয় তো শুধু আমার নয়। এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমার দেশও। যেভাবে সকলে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আমি প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ।’ খবর-এবেলা

শনিবার বিজেন্দ্র বনাম হোপ-এর দ্বৈরথ দেখতে রাজধানীর ত্যাগরাজ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ছিল চাঁদের হাট। মেরি কম থেকে সুরেশ রায়না, বীরেন্দ্র সহবাগ থেকে বলিউডের অভিনেত্রী নেহা ধূপিয়া। যোগেশ্বর দত্ত থেকে রণদীপ হুডা—সকলেই প্রথম রাউন্ড থেকে গলা ফাটিয়েছেন ভারতীয় বক্সারের হয়ে। সেখানেই শেষ নয়।

বিজেন্দ্রর লড়াই দেখতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ রাজীব শুক্লও। যদিও অভিজ্ঞতা খুব সুখের হয়নি প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর পুত্রের। গ্যালারি থেকে তাঁকে দর্শকরা ‘মোদী, মোদী’ ধ্বনি তুলে বিদ্রুপও করেন। রাহুল অবশ্য তা নিয়ে কোনও রকম বিরক্তিপ্রকাশ করেননি। দর্শকদের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে হাত নেড়ে বিজেন্দ্রর লড়াই মন দিয়ে দেখেন।

শনিবারের খেতাব জিততে অবশ্য বিজেন্দ্রকে প্রচুর পরিশ্রমই করতে হয়েছে। দশ রাউন্ডের লড়াইয়ে ভারতীয় বক্সার প্রথম পয়েন্ট পান ষষ্ঠ রাউন্ডের পর। রিংয়ের মধ্যে ক্রমশ নড়াচড়া করে বিজেন্দ্রকে চাপের মধ্যে রেখেছিলেন অস্ট্রেলীয় প্রতিপক্ষ হোপ।

ম্যাচের পর যা নিয়ে ৩০ বছরের নতুন এশিয়া প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, ‘ওর ম্যাচের ভিডিও দেখে বুঝেছিলাম, যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’ আরও বলেছেন, ‘প্রথম চার রাউন্ড খুব ভাল লড়াই করেছে হোপ। কিন্তু আমারও লক্ষ্য ছিল ওকে ক্লান্ত করে তোলা। সেভাবেই সাফল্য এসেছে।’

লড়াইয়ের তিন বিচারক মোট ৩০০ পয়েন্টের মধ্যে বিজেন্দ্রকে দিয়েছেন ২৯৬ পয়েন্ট। হোপ পেয়েছেন ২৭৪ পয়েন্ট। শনিবারের এই ঐতিহাসিক জয় কি ভারতের মাটিতে পেশাদার বক্সিংয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে দেবে? আশাবাদী বিজেন্দ্র বলেছেন, ‘যেভাবে বিশাল সংখ্যক মানুষ এই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন, তা দেখে মনে হচ্ছে পেশাদার বক্সিং সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সেটা ধরে রাখতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here