খুলনায় অনিয়ম ছিল, তবে ফলাফল একই থাকতো

0
20

ঢাকা: খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করা ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৬টি কেন্দ্রে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা; তবে তারা বলছে, এসব ‘ছোটখাটো’ গোলযোগ না ঘটলেও ভোটের ফলাফল একই থাকতো।

মঙ্গলবার খুলনার আলোচিত ভোটের পর দিন বুধবার (১৬ মে) রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই নির্বাচন নিয়ে মূল্যায়ন তুলে ধরে ইডব্লিউজি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যেসব অনিয়ম হয়েছে তার মধ্যে আছে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং ভোটারকে বাধা দান।

এর মধ্যে ভোট কেন্দ্রের বাইরে সহিংসতা হয়েছে ১২টি, ভেতরে সহিংসতা হয়েছে চারটি, ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধাদানের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি, পর্যবেক্ষককে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে চারটি, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে ১০টি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে চারটি।

ইডব্লিউজির পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, ‘৩২ শতাংশ কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু নির্বাচনী সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেগুলো নির্বাচনের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলেনি। সার্বিকভাবে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।’

‘যে কয়টি ঘটনা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনার মাত্রা বড় আকারে ছিল না, ছোট ছোট ঘটনাগুলো নির্বাচনের ফলাফলে কোনও পরিবর্তন ফেলতে পারেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের পর্যবেক্ষণে ৯৯.৩ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে। বিএনপির এজেন্ট ছিল ৮৮.৮ শতাংশ কেন্দ্রে।

ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ৬৪.৮ শতাংশ।

‘ভোট গ্রহণ শুরুর সময় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশ কেন্দ্রের লাইনে ১ থেকে ২০ জন ভোটার দাঁড়িয়ে ছিল। ২৭ শতাংশ কেন্দ্রে ২১ থেকে ৪০ জন ভোটার এবং ৩৪ শতাংশ কেন্দ্রে ৪০ জনের বেশি ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।’

গত ডিসেম্বরের রংপুরের নির্বাচনকে এ যাবৎকালের সেরা নির্বাচন আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘তার থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনেক পিছিয়ে আছে। এর কারণ হলো, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবার একটি বড় সমর্থন ইলেকশন কমিশন পেয়েছিল।’

মঙ্গলবার খুলনায় যে ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে ১০৫টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেখানে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তবে ভোটের দিন মোট ছয়টি কেন্দ্রে পুরোপুরি বা আংশিক ভোট বন্ধ রাখে নির্বাচন কমিশন। নৌকা মার্কায় সিল মারার প্রমাণ পেয়ে কিছু কেন্দ্রে বাতিল করা হয় ব্যালট। আর শেষ পর্যন্ত তিনটি কেন্দ্রে ভোট আর চালু হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু গোলযোগ থাকলেও এই নির্বাচানকে চমৎকার বলা হয়েছে। আর বিজয়ী প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেছেন, যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, সেটি না হলে ভালো হতো, তবে সেটি ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়েছে এমন নয়।

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের মূল্যায়নও তাই। তারাও বলেছে, ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইডব্লিউজির সদস্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহও। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। জাল ভোটের ক্ষেত্রে ইসির জিরো টলারেন্স নীতি ছিল বলেই তিনটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here