ক্ষুধা নিবারণ করে যেসব খাবার!

0
8

বেঁচে থাকার জন্য খেতে হবে, কারণ আমাদের শরীর খাবার ছাড়া অচল। কিন্তু এই খাবারের পরিমাণও নির্দিষ্ট হওয়া জরুরী। কারণ, অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। খাবারের পরিমাণ অতিরিক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি পাবার পাশাপাশি আমাদের শরিরেও বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে। তাই আমাদের শরির সুস্থ রাখতে খাবারের তালিকা স্বাভাবিক হতে হবে।

তবে এমন কিছু কিছু খাবার রয়েছে, যা ক্ষুধা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এসব খাবার অল্প করে খেলেও পেট ভরা মনে হয়। তাই আপনার ডায়েট তালিকায় এই ধরণের খাবার রাখার চেষ্টা করুন। যাতে করে বেশি খাবার খেয়ে মোটা হবার ঝুঁকি কমে যায়।

জার্নাল মলিকুলার মেটাবলিজমে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, অ্যামিনো অ্যাসিড আরজিন এবং লাইসিনযুক্ত খাবারগুলি নতুন প্রজাতির নিউক্লিয়ার কোষকে সক্রিয় করার কাজে পাওয়া গেছে, যা ট্যানকাইটিস নামে পরিচিত, যা আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ট্যান্সিচাইট মস্তিষ্কের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরাসরি আপনার রক্তে অ্যামিনো অ্যাসিড এর উপস্থিতি বোঝে, যা পূর্ণতা অনুভব করে। তাই ডায়েট তালিকায় এসব খাবার অনেক বেশি উপকারী। আসুন সে সকল খাবারের লিস্ট জেনে নেয়া যাক-

১. মুগ ডাল: মুগ ডালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি ও ই আছে। এছাড়াও রয়েছে ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং পট্যাশিয়াম। প্রোটিন এবং ফাইবার রিচ খাবার হওয়ার দরুণ এক বাটি মুগ ডাল খেলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে। তবে পরিমাণ মেপে খাওয়াই ভালো।

২. আখরোট: খিদে পেলে চার-পাঁচটা আখরোট খেয়ে নিন। পেট তো ভরবেই সেই সঙ্গে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটের তুলনায় আখরোটে কোলেস্টেরলের পরিমাণও কম। তবে একটা কথা খেয়াল রাখবেন। আখরোটে অনেক বেশি পরিমাণে ক্যালোরি রয়েছে, ফলে আখরোট খেয়ে ওজন কমে বলে সারাদিন ধরেই আখরোট খেলেন, তাহলে হিতে বিপরীতই হবে।

৩. আমন্ড: আমন্ডও ওজন কমাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে জলে ২-৩টে আমন্ড ভিজিয়ে রাখবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড খেয়ে নেবেন। সারাদিনে খিদে পেলেও চিপসের পরিবর্তে চোখ বন্ধ করে আমন্ড বেছে নিতে পারেন। তবে ওই আখরোটের মতোই একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাবেন না। তাতে ফল উল্টো হবে।

৪. আপেল: শুধুমাত্র ডাক্তারের হাত থেকেই আপনাকে দূরে রাখে তা নয়, আপেল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। আপেলে পর্যপ্ত পরিমাণে ফাইবার আছে যা হজম করতে অনেক সময় নেয়। তাই পেটও অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভর্তি থাকে।

৫. ফুলকপি: সত্যিই ফুলকপি ওজন কমাতে সাহায্য করে। লো ক্যালোরি খাবার হওয়ার পাশাপাশি এতে ফাইবারও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তাই পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে। তা ছাড়াও এতে ইন্ডোল, গ্লুকোসাইনোলেট এবং থায়োসাইনেট রয়েছে যা শরীর থেকে টক্সিন বের করতেও সাহায্য করে।

৬. রসুন: যেকোনো খাবারে রসুনের ছোঁয়া বদলে দেয় তার পুরো স্বাদ, কিন্তু জানেন কি এই রসুন ওজন কমাতেও একইভাবে সাহায্য করে! রসুনে মজুত অ্যালিসিন উচ্চ কোলেস্টেরল ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি ব্লাড শুগারও কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও অ্যাপেটাইট কনট্রোল করতেও রসুন উপযোগী। ফলে ওজন খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭. টমেটো: টমেটো খেলে শরীরে কোলেসিসটোকিনিন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয় যা স্টম্যাক এবং ইনটেস্টাইনের মধ্যে যে ভাল্ভ রয়েছে তা টাইট করে দেয়। ফলে পেট ভর্তি লাগে। তাই অনায়াসেই ওভারইটিং এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত না খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে না। সূত্রঃ ইন্ডিয়া টাইম্‌স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here