ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখছে জাতীয় পার্টি, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস দমনে সক্ষম হবে না : নিউইয়র্কে এরশাদ

0
270

07222016_04_HM_ERSHAD_JPনিউইয়র্ক: ‘অর্থ পাচার মামলায় তারেক রহমানের ৭ বছরের জেল এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। ১১ জন লোক পানি বিএনপি বিক্ষোভের জন্যে। মাঠেও নেই বিএনপি। এভাবেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিএনপির অস্তিত্ব। তাই ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ যদি সন্ত্রাস দমনে সক্ষম না হয়, আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ অটুট রাখতে না পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনে মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকেই ক্ষমতায় নেবে’-এমন আশাবাদ পোষণ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপদেষ্টা এইচ এম এরশাদ। একইসাথে এরশাদ উল্লেখ করেন, ‘আমি শেখ হাসিনাকে বোন বলে মানি। এজন্যে সব সময় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে সবসময় আওয়ামী লীগের পাশেই থাকবো।’

এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কখনোই সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতিও করেনি। জাতীয় পার্টি উন্নয়ন আর শান্তিতে বিশ্বাসী।’ ‘সন্ত্রাস নির্মূলের জন্যে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছি জাতীয় ঐক্য গড়ার জন্যে। আশা করছি শেখ হাসিনা সেটি মানবেন এবং সে পথ বেয়েই বাংলাদেশে বর্তমানের অশুভ শক্তির চির অবসান ঘটবে।’২১জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এরশাদকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সেখানেই তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং তা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে উত্তরণের উপায় নিয়ে কিছু কথা বলেন। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যে জন্যে উদ্বিগ্ন হবার কথা। তবে আমি আশ্বস্ত করতে পারি, চিন্তার কোন কারণ নেই, উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস দমনে সক্ষম হবেনই। আমরা তার সঙ্গে আছি, সব সময় পাশেই থাকবো।’ এরশাদ উল্লেখ করেন, ‘আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, যে যেখানেই আছেন, আসুন সকলে মিলে সরকারের পাশে দাঁড়াই, এমন পরিস্থিতির উত্তরণে।’

‘বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৫ বছর। ৩ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। অবশিষ্ট সময়ও তারাই দায়িত্ব পালন করবেন। এটিই গণতন্ত্রের রীতি। জাতীয় পার্টি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে’-বলেন এরশাদ। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আব্দুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন এ সমাবেশে। জাতীয় পার্টিও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ এরশাদের সকল সফরসঙ্গি মঞ্চে উপবেশন ও বক্তব্য রাখেন। মহাসচিব তার বক্তব্যে বলেন, ‘এরশাদ যদি ৯ বছরের স্থলে ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকনে তাহলে বাংলাদেশ আজ মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যেত। তবুও উন্নয়ন থেমে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই গতি অব্যাহত রাখতে চাই জাতীয় ঐক্য আর রাজনৈতিক স্থিতি। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রবীন রাজনীতিক হিসেবে এরশাদ সাহেব শেখ হাসিনার পাশে রয়েছেন জাতির অভিভাবক হিসেবে।’ হাওলাদার বলেন, ‘এরশাদের আমলে সৃষ্ট অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপ্তি ঘটাচ্ছেন শেখ হাসিনা।’

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রম চালু করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে তাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে সম্মান দিয়েছি। তাদের প্রাপ্য অনেক বেশী। জীবন বাজি রেখে তারা যুদ্ধ করেছেন বলেই আমরা ক্ষমতা পেয়েছি, পাচ্ছি।’এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানও বক্তব্য রাখেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের পর জাতীয় পার্টির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। স্বাগত বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান চৌধুরী। তিনি প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সমাবেশে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের জন্যে। এরশাদ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন গত সোমবার। ২৪ জুলাই নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। এ সময়ে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানান জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ।