কোরীয় সংকটে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা চাই: পোপ

0
85

pope_46114_1493586510আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনা থামাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ের নামও প্রস্তাব করেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এই ধর্মগুরু। তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বিপজ্জনক পরমাণু কর্মসূচি কমাতে ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক মনোভাব এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। খবর বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

মিসর সফর শেষে ভ্যাটিকান ফেরার পথে বিমানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পোপ ফ্রান্সিস। এ সময় তিনি কোরীয় সংকট নিরসনে তার পরিকল্পনা ও পরামর্শের কথা জানান।

পোপ বলেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আর তাতে মানবতার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় এ সংকটের সমাধান সম্ভব। বিশ্বে অনেক সাহায্যকারী রয়েছে, যারা মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী।

এখানে নরওয়ের কথা বলা যেতে পারে। দেশটি সাহায্যের জন্য সব সময় প্রস্তুত।’ শনিবার ভোরে পিয়ংইয়ংয়ের উত্তর দিকের দক্ষিণ পিয়ংগান এলাকার একটি ঘাঁটি থেকে একটি মধ্যপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয় বলে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

সিউলের বক্তব্য অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ড পরই বিস্ফোরিত হয় এবং পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা পরই পোপ কোরিয়া সংকট সমাধানের আহ্বান জানালেন।

গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি ভালো চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছিল নরওয়ে। ওই চুক্তি অসলো চুক্তি নামে পরিচিত। পোপ ফ্রাঁসিস এক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্রতিও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। আগামী মাসে ইউরোপ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তখন তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পোপ।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সংকট সমাধানে ‘কঠোর চেষ্টা’ করছেন। এর মাঝে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে দেশটি চীন এবং তার প্রেসিডেন্টকে অপমান করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ঠেকানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা চালাতেই আন্তর্জাতিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের শপথের পর থেকে উত্তর কোরিয়াও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দিয়েছে। চীন উত্তর কোরিয়াকে দমনে সহায়তা না করলে প্রয়োজনে একাই সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।