কোনো আপোস নয়, জঙ্গিবাদ ধ্বংস করতে হবে

0
114

07112016_16_PROTEST_AT_SHAHID_MINAR-300x192ঢাকা: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সমাবেশে ১৪ দলের নেতারা বলেছেন, কোন আপোস নয়, জঙ্গিবাদকে ধ্বংস করতে হবে।হঠাৎ করেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কালো ছায়া। গুলশানের আর্টিসান রেস্তোরা আর পবিত্র ঈদের দিন শোলাকিয়া পর পর ঘটে যাওয়া এসব সন্ত্রাসী হামলায় স্তম্ভিত পুরো দেশ। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলের সমাবেশ।বিকেল ৩টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এসময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সমাবেশে স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে যোগ দেন।

 

এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়।সমাবেশে নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দোসররা বাংলাদেশকে ঘিরে এখনো ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রই হচ্ছে সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা। বিদেশিদের হত্যার মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য তাদের।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এসব আক্রমণের সঙ্গে ধর্মের বা ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। এরা ইসলামের ক্ষতি করছে। ৭১ এর পরাজিত শক্তি এরা। এদের ৭১ এও পরাজিত করেছি আমরা, এখনো করবো। আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন, এই আন্দোলন শুধু শেখ হাসিনা নয়, এই আন্দোলন আমাদের সবার, জয় আমাদের হবেই।সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসনে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন বিএনপি-জামায়াতের প্ররোচণায় কতগুলো জঙ্গি দল দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আগামী ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অভিভাবক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও এডভোকেট সাহারা খাতুন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বিএনএ জোটের আহবায়ক ব্যারিষ্টার নাজমূল হুদা, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি জেপির সাধারণ সম্পাদকসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, কৃষক, শ্রমিক, নারী, ছাত্র, যুবক, তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সন্ত্রাসবিরোধী এই সমাবেশকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।