কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বুধবার মানববন্ধন

0
27

ঢাকা: কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বুধবার সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এ ঘোষণা দেন।

কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে জাতীয় জাদুঘর পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নুর বলেন, আমরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। এরই প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করি। কিন্তু সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ও কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ছাত্র সমাজ আবার ফুঁসে ওঠে। তারপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলে ছাত্র সমাজ প্রজ্ঞাপন জারির জন্য অপেক্ষা করে এবং আনন্দ মিছিল করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ২৭ দিন পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই দুইবার কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পরও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শ্রদ্ধাশীল। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে ছাত্র সমাজের মধ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তাদের শান্ত করুন।

নুর বলেন, আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। আমরা আশা করছি আগামী দু’একদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন পাবো।

যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ছাত্র সমাজের সঙ্গে নাটক শুরু হয়েছে। চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমরা বলে দিতে চাই ছাত্র সমাজ কোন চক্রান্ত মেনে নিবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম শেষ হয় গতকাল সোমবার। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ায় ফের দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দিলেন তারা।

এর আগে ২৬ এপ্রিল কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। এই সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ১ মে থেকে আবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। এমন অবস্থায় ২৭ এপ্রিল আন্দোলনকারীদের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে ৭ মে পর্যন্ত আলটিমেটামের সময় বাড়ান আন্দোলনকারীরা।