কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

0
32

ঢাকা: কোটা ব্যবস্থা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে জারির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সমকালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে কোটা পদ্ধতি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে জড়ো হন। পরে তাদের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

রংপুর অফিস জানায়, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রংপুরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর সরকারি কলেজ, বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রবিউল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক নবী ওয়াদুদ সাদমান, আমিনুর ইসলাম, আসাদুজ্জামান, মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।

তারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা অবিলম্বে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান। অন্যথায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ তাদের উঠিয়ে দিলে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। পক্ষে-বিপক্ষে সংসদ ও দেশব্যাপী তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, চাকরিতে আর কোটাই থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর থেকে তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।

গত ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন থেকে ১০ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানান। অন্যথায় ১৩ মে রোববার থেকে তারা ফের আন্দোলনের নামার ঘোষণা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোটা সংস্কারে কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠনের এ উদ্যোগকে আন্দোলন ভণ্ডুলের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারীরা।