কুমিল্লায় হারার জন্য দায়ী দলীয় নেতাদের শাস্তি হবে: ওবায়দুল কাদের

0
104
002_259124_278128_281974ঢাকা: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার হেরে যাওয়ার পেছনে দায়ী দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১২ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমন তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যাদের কারণে কুসিকে দলীয় প্রার্থী হেরে গেছেন, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।

বৈঠকসূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের প্রায় সবাই কুসিকে দলীয় প্রার্থী হারার জন্য কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহারকে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন। এক্ষেত্রে বাহারের সঙ্গে দলীয় মেয়রপ্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার বাবা ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফজল খানের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। নেতাদের অনেকে দলীয় প্রার্থীর হারার পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতা দলের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সভাপতি পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ও সাধারণ সম্পাদক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ‘নেতিবাচক ভূমিকা’কেও দায়ী করেন। তারা ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই বিষয়টি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরা হবে। ওই বৈঠকেই এ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে কুসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হারার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য দলের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেননা বড় সিদ্ধান্ত দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ১২ এপ্রিল দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু সুপারিশ আকারে তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে নির্বাহী কমিটি সিদ্ধা নেবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা নির্বাচনসহ আগামীতে অনুষ্ঠেয় আরও কিছু নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল দলের পক্ষে শোভযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হবে। র‌্যালি আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ এবং দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটিকে।

এ সময় আগামী ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার দিবস উদযাপন কমিটিও গঠন করা হয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে কমিটির আহ্বায়ক এবং খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মুজিবনগর দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানমালার সমন্বয় করবেন।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, ফরিদুন্নাহার লাইলী, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শামসুর নাহার চাপা, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।