কারাগারে তোয়ালের ফাঁসে ধর্ষকের আত্মহত্যার চেষ্টা

0
94

vinay_sharma_23199_1472101789আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে চলন্ত বাসে মেডিকেল ছাত্রী  জ্যোতি সিং ওরফে নির্ভয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির অন্যতম বিনয় শর্মা কারাগারে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দিল্লির হাইসিকিউরিটি কারাগার ‘তিহার জেলে’ বুধবার গলায় তোয়ালের ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিনয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তোয়ালে ফাঁস দেওয়ার আগে বিনয় ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন। বর্তমানে আশংকামুক্ত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত বছর কারাগারের অপর বন্দিদের পিটুনির শিকার হওয়ার অভিযোগ করে শরীর চর্চাকেন্দ্রের সাবেক ইনস্ট্রাক্টর বিনয় শর্মা নিজের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন।

এদিকে তিহার জেলেই ২০১৩ সালের ১১ মার্চ নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আরেক আসামি বাসচালক রাম সিংয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী নির্ভয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে ছয় দুর্বৃত্ত। তারা নির্ভয়াকে অকথ্য যৌন নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়েনি। নির্ভয়ার যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে দিয়েছিল লোহার রডসহ আরও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি।

ধর্ষণের পর নির্ভয়া ও তার ছেলে বন্ধুকে বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর নির্ভয়াকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দিল্লির চিকিৎসকরা। পরে তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ দিন লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।

এই ঘটনার পর দিল্লিসহ সারা ভারতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দেশটির প্রচলিত ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনে ধর্ষকদের যথাযথ শাস্তি দেয়া যায় না অভিযোগ উঠলে আইন পরিবর্তনেও বাধ্য হয় সরকার।

এদিকে আন্দোলনের মুখে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত অভিযুক্ত ছয়জনের প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে তিহার জেলে বাসটির চালক রাম সিং আত্মহত্যা করে। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী বিনয় শর্মাসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ঘটনার সময় নাবালক একজনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here