কারাগারের আদালতে খালেদার বিচার: নিরাপত্তা জোরদার

0
8

ঢাকা: ‘নিরাপত্তার কারণে’ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার বিচারে পুরাতন ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই আদালত বসবেন। বুধবার সেখানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সাবেক এই কেন্দ্রীয় কারাগারকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করে। ফলে আজ এই কারাগারেই আদালত বসার কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এ কারাগারের ভেতর আদালতের অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। আগে এটি অফিস ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

এর আগে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হচ্ছিল। তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হওয়ার পর অন্যান্য মামলার হাজিরার দিন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, এটা আইনের পরিপন্থী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন। সেদিনই তাকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পর থেকে ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। এই ‘বিশেষ কারাগারে’ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত এক গৃহকর্মীও রয়েছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বেশ কয়েকটি তারিখ ধার্য হলেও খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা যায়নি। মামলাটিতে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন- সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। এ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ সাক্ষী।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। এ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে এ মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

তিন মামলায় মুক্তি আটকে আছে: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হলেও তার মুক্তি অন্য তিনটি মামলায় আটকে আছে। বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, ঢাকার একটি মানহানি মামলা, কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি এবং বাসে আগুন দিয়ে আট যাত্রীকে পুড়িয়ে মারার আরেকটি মামলায় জামিন হলেই মুক্তি পাবেন তিনি।

তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৪টি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলাও রয়েছে। বাকি ৩০টি মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগ রয়েছে।