ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মাহমুদ আলী

0
35

ঢাকা: অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। শনিবার (৫ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী ৪৫তম সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনের শুরুতে আগামী এক বছরের জন্য ওআইসির ৪৪তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল এমন ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে মাহমুদ আলীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল লিওনিদোভিচ বাগানোভওসহ সংস্থার সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য— ‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নে ইসলামিক মূল্যবোধ’।

ইতিমধ্যে সভাপতির বক্তব্য রেখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। মাহমুদ আলী বলেন, ইসলাম ও শান্তির সঙ্গে চরমপন্থার কোনো সম্পর্ক নেই। মুষ্টিমেয় কিছু উশৃঙ্খল গোষ্ঠীর জন্য ইসলামের দুর্নাম হচ্ছে। ইসলামকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে (সিএফএম) যোগ দিয়েছেন। এবারের সিএফএম সম্মেলনে সব রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২৫ বছর পর ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১৪তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্র, আবাসস্থল এবং যাতায়াতের পথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশ যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন সম্মেলনে।

এর আগে শুক্রবার সকালে ওআইসি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিনিধি দলটি প্রথমে তাজমিয়ার খোলায় যায়। এরপর সেখান থেকে কুতুপালং ডি ব্লক পরিদর্শন করে। সেখানে তারা নিপীড়িত, নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদেরকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের ঘটনাকে সভ্যতার কলঙ্ক বলেও উল্লেখ করেন ওআইসির সহকারী মহাসচিব হাসমি ইউছুফ।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অন্য সংস্থার পাশাপাশি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপরাশনও (ওআইসি) জোরালো ভূমিকা রাখবে।