এসো আমরা স্মরণ করি

0
54

bangabandhu20170316180259_54064_1501731494নিউজ ডেস্ক: এসো আমরা স্মরণ করি আমাদের মুজিব এবং রেণুকে। এই তো সেই কাল মাস যে মাসে আমরা হারিয়েছিলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গজননীকে। এই মাসেই তাদের শরীরের রক্তে ভিজে গিয়েছিল বাংলার মাটি ও জনপদ।

তাদের প্রাণরেণু হরণ করেছিল তারাই যারা বাংলা ও বাঙালির আদর-যত্ন ও বিলাসে প্রতিপালিত হয়েছিল। যাদের প্রতি এই কর্তব্য ন্যস্ত ছিল যে দেশের মানুষ এবং জনপদকে তারা শঙ্কামুক্ত রাখবে। কিন্তু তারা তাদের কর্তব্য পালন করেনি। এই মাস তাই নেমকহারামিরও মাস!

তাই ঝরঝর বৃষ্টি এবং বাদল হাওয়ার এই মাসের ভেতরে আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। আমরা ক্লিষ্টবোধ করি। আমরা অস্থির হই। ইতিহাস আমাদের অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

যে পিতা একদা তার জীবন বিপন্ন করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার সোনালি ফসল, জেল-জুলুম, অত্যাচার, অনাচার, অবিচার সবকিছু তার নিজের বুকে তুলে নিয়ে হাজার বছরের পরাধীন বাঙালির আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন লাল-সবুজের ঝাণ্ডা, তাকেই আমরা নিজেদের রাজা সাজার লোভ এবং হিংসাকে পুঁজি করে তার শরীর এবং সংসারে বইয়ে দিয়েছিলাম রক্তগঙ্গার ঢল।

একটি মাত্র মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে গিয়ে আমাদের জীবন ছারখার হয়ে যায়, চোখে অন্ধকার নেমে আসে, জীবন মূল্যহীন হয়ে যায়, সেখানে মুহূর্তের ভেতরে কত, কত মৃত্যু। কত কত রক্ত। কত কত ধ্বংস। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রকে বিলীন করে দেয়ার জন্য কত বড় ষড়যন্ত্র, এই শোক দেশের মানুষ কীভাবে সহ্য করবে?

এই শোক ইতিহাসও বা কীভাবে সহ্য করবে।

একটি মুজিবের শোক যেন আমাদের শত শত সিরাজদৌলার জন্য শোক।

আর যে বালিকা রেণু তার দৈনন্দিন হাত খরচের পয়সা জমিয়ে, কখনও বা গুরুজনদের কাছ থেকে স্নেহাশীষ পেয়ে যাবতীয় অর্থ তুলে দিতেন নিজের প্রাণপ্রিয় স্বামীর হাতে তার পার্টির খরচের জন্য বা মানুষের সাহায্যের জন্য, যে রেণু কখনও অন্যায়, অসত্য, অত্যাচার বা লোভের সঙ্গে সমঝোতা গড়েননি, যে রেণু কোনোদিন বন্ড দিয়ে স্বামীকে জেলখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি, বদলে নিজের ছোট ছোট সন্তান নিয়ে কষ্টে কালাতিপাত করেছেন বছরের পর বছর, ফলে যে সন্তানেরা বহুদিন পর্যন্ত নিজের পিতার মুখ পর্যন্ত স্মরণে রাখতে পারত না, যে রেণু বঙ্গবন্ধুর বিপদে বিপর্যয়ে সর্বদাই ঢালের মতো সমুখে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, এসো আজ আমরা তারই জন্য বিলাপ করি।

যে রাসেল ‘আমি মায়ের কাছে যাব’ বলে মিনতি করেছিলেন নিষ্ঠুর সেনা সদস্যের কাছে, বদলে বুলেটের কাছে তাকে বিদায় জানানো হয়েছিল, এসো আজ আমরা তারও জন্য বিলাপ করি।

এসো আমরা বিলাপ করি শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামালের মতো তরুণ-তরুণীদের জন্যও, যাদের হাতের মেহেদির রং তখনও মুছে যায়নি, তবু যাদের চোখে ছিল দেশ গড়ার স্বপ্ন; শিল্পে, সঙ্গীতে, খেলাধুলায় দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ছিল যাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা, এসো আজ আমরা তাদের জন্যও শোক করি।

এসো, আজ আমরা পোটকা এবং পোটকার মায়ের জন্যও শোক করি। এই বীর মা ও ছেলে তো সেই কালরাতে সেনা সদস্যদের পায়ে পড়ে জীবন ভিক্ষা করেনি, হাসিমুখে তারা তাদের বুকে তুলে নিয়েছিল বুলেট, তবু যাদের নুন খেয়েছিল, তাদের সঙ্গে নেমকহারামি করেনি, যেমন করেছিল সেনা সদস্যরা।

সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশটির বয়স ছিল তখন মাত্র তিন বছর আট মাস। আর বিশ্বাসঘাতকদের লোভ ছিল আকাশচুম্বী।

এই মাস আগস্ট মাস। এই মাস বর্ষা ঝরঝর শ্রাবণ মাস। এই মাস ক্রন্দনের মাস। এই মাস বিশ্বাসঘাতকদের মাস। এই মাস ষড়যন্ত্রের মাস। এই মাসের গাছগাছালি, পাহাড়, নদী, খালবিল, সমুদ্র সৈকত সবখানে মহান মুজিব ও সাহসী রেণুর ছায়া ভেসে যাচ্ছে। এসো আমরা বাঙালিরা, আজ এই মাসে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গজননীর জন্য বিলাপ করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here