এলিজা বিনতে এলাহি’র ভ্রমণ অভিজ্ঞতা মলাটবদ্ধ

0
247

কনক্রিটের শহরে কর্মব্যস্ত আর একঘেঁয়ে জীবন। এর থেকে মুক্তি পেতে চায় শহুরে মানুষ। একটু শান্তি আর স্বস্তির খুঁজে সময় পেলেই শহরের বাইরে ছুটে যান অনেকে। কখনো নির্জনে, কখনো গহীনে। দেশে কিংবা দেশের বাইরে। কেউ ঘটা করে ঘুরতে যায়, কেউবা হঠাৎ বেড়িয়ে পড়ে ভ্রমণের নেশায়। যেখানে প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় মর্মস্পর্শী কোমলতায় সিক্ত হয় হৃদয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের খোঁজে তেমনই ছুটে বেড়ান এলিজা বিনতে এলাহি। ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের একটি ভ্রমণ বিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি’ নামের বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে আজ শুক্রবার। বই নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে।

তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলো উঠে এসেছে এই বইয়ে। ১০টি অনুচ্ছেদে ঠাঁই পেয়েছে এশিয়ার ১০টি স্থানে তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এলিজা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি আসলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা অনুভব করিনি। মা তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার হাত ধরেই আমার ভ্রমণের যাত্রাটা শুরু। তারপর যেটি হলো, ঘোরাঘুরি করে যে ভ্রমণকাহিনী লিখব। সেটি তখন হয়ে ওঠেনি। বিয়ের আগে মা-বাবার সাথে ঘোরাঘুরি করেছি। এরপর যে পরিবারে এসেছি, তারাও ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। আমি দশ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় আছি’।

এলিজা ছোট থেকে বড় হয়েছেন ইট-কাঠ আর পাথরের ঘেরা এ শহরেই। মা আইনপ্রণেতা হওয়ায় জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে এমপি হোস্টেলে। শহীদ বীর উত্তম আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে পড়েছেন। এরপর ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও এআইইউবি থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এমবিএ করেছেন।

এলিজা বলছিলেন, ‘যেহেতু আমি ইংরেজি সাহিত্যে পড়েছি, যার কারণে ঘোরাঘুরিটা আমার জীবনে স্বাভাবিকই ছিল। বিশেষ করে পৃথিবীর প্রাচীনতম স্থান কিংবা স্থাপনাগুলো আমাকে টানে। এরপর যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছি, তখন রিসার্স পেপার কিংবা পাবলিকেশনের কাজে লেখালেখি করতে হয়েছে। তারপরে কিছু কিছু সময় চেষ্টা করতে ইংরেজিতে কবিতা লেখার জন্যে। এরপর যখন আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে কনফারেন্স কিংবা সেমিনারে দেশের বাইরে যেতে হতো, তখন মনে হয়েছে আমাকে আমার ঘোরাঘুরির জায়গাগুলো লিপিবদ্ধ করা দরকার। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি, দেখেছি, এগুলোকে এখন আর্কাইভ করা জরুরি।’

পৃথিবীর প্রাচীন নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখতে দেখতে লেখালেখির মূল রসদ যোগান তিনি। এলিজার ভাষায় অনেকটা এরকমই, ‘চালিকাশক্তি কিন্তু ওই পুরনো সভ্যতা থেকেই পাই’।এলিজার চোখে দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যের জায়গা রাঙামাটি-বান্দরবান। তবে তিনি যে সময়কার কথা বলছেন সেটি ৯০ এর দশকের। তখন বান্দরবানের চিম্বুক পর্যন্ত যাওয়া যেত। এলিজা বলেন, ‘ওখানকার সৌন্দর্যটা আশ্চর্য লাগার মতো। আমি যতবারই গিয়েছে, আপন মনে সৌন্দর্যের বিলাস আউরিয়েছি, ততবারই মুগ্ধ হয়েছি।’

কয়েকটি দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন এলিজা। আপন চোখে দেখেছেন এক একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, কিংবা সাংস্কৃতিক দৃশ্যপট। ভিন্ন সংস্কৃতি দেখে যারপনাই মুগ্ধ। পৃথিবীব্যাপী এক ধরনের কালচারাল ডাইভারসিটি দেখেছেন। কথার সুর ধরেই বলছিলেন, ‘জাপান আর চীনে ঘুরতে গিয়ে খাবার নিয়ে বেশ বিপাকে পরেছিলাম। পাঁচদিনের মধ্যে তিনদিনই ঠিকমতো খাবার খেতে পাইনি। আর সাংস্কৃতিক দিকের কথা তো না বললেই নয়। এক কথায় দারুণ।’

কিন্তু অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে আমাদের বাংলাদেশ পর্যটনশিল্প কোন অবস্থানে আছে? এলিজা বলেন, ‘আমাদের দেশে যে টুরিস্ট স্পট রয়েছে সেগুলো আরও উন্নত হওয়া উচিত। আমি বাইরের অনেকগুলো দেশে ঘুরেছি, সেখানে যেভাবে সাজানো ছিল, আমাদের তো অনেক সুযোগ আছে। তারপরও আমরা পারছি না। আমার মনে হয় মার্কেটিং এর কারণে আমরা ভাল কিছু করতে পারছি না। সবচেয়ে বড় তফাৎ যেটি লেগেছে সেটি হলো নিয়মানুবর্তিতা’।

এর কারণ হিসেবে যোগ করে এলিজা আরও বললেন, ‘আমাদের দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পর্যটন শিল্পে এগিয়ে না যাওয়ার কারণ হচ্ছে- শিক্ষার অভাব, জ্ঞানের অভাব। আমাদের পর্যাপ্ত বাজেট আছে, কিন্ত মনিটর  হচ্ছে না, পলিসিগত সমস্যা আছে। কীভাবে আমাদের বিখ্যাত নিদর্শনগুলো আমরা তুলে ধরব, সেটিও একটা বিষয়। আমি আমার একটা রিসার্সের কাজে পর্যটন কর্পোরেশনে গিয়েছিলাম তারা আমাকে আপডেট তথ্য দিতে পারেনি। এটি আমার কাছে অবাক লেগেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here