এবার রক্তাক্ত হলো মিউনিখ, জঙ্গিদের অর্থের উৎস বন্ধ করুন

0
482

234312kalerkantho-sompa-1জঙ্গিবাদের নিষ্ঠুর থাবায় বিশ্বজুড়েই রক্ত ঝরছে। গতকালও জার্মানির মিউনিখ শহরের একটি শপিং মলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নারী, শিশুসহ নিহত হয়েছে ৯ জন। অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত এক জার্মান নাগরিক, হামলার পর যে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। বাংলাদেশে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার ক্ষত এখনো শুকায়নি। রেশ রয়ে গেছে এখনো ফ্রান্সের নিস শহরে বর্বরোচিত ট্রাক হামলারও। বেলজিয়াম ও তুরস্কের বিমানবন্দরে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো শহরের নাইট ক্লাবে হামলায় নিহতদের স্বজনরা এখনো আহাজারি করছেন। কেন একের পর এক এমন জঘন্য হামলার ঘটনা ঘটছে? প্রায় প্রতিটি ঘটনায় অসুর শক্তি আইএস দায় স্বীকার করছে এবং শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলঙ্কিত করছে। এদের অর্থ, অস্ত্র ও অন্যান্য মদদ দিয়ে যাচ্ছে কারা? কেন তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না?

জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিদ্বেষ সৃষ্টিকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ স্বাধীনতাবিরোধী একটি দল বাংলাদেশে ইসলামের নামে এ কাজটি ১৯৭১ সালেও করেছে, এখনো করছে। তারা সুকৌশলে জঙ্গিবাদ বিস্তার করে চলেছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সারা দেশে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজশাহীতে জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে ট্রাক মিছিল হয়েছে। অথচ তত্কালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী সব কিছু অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাই বলে কেউ নেই, সবই মিডিয়ার সৃষ্টি।’ চট্টগ্রামে পুলিশ ভুল করে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্রের একটি চালান আটকে দিয়েছিল, যেগুলো খালাস করা হচ্ছিল তাঁরই মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি স্থাপনায়।

এ রকম আরো কত অবৈধ অস্ত্রের চালান সে সময় এসেছে এবং তার কত অংশ জঙ্গিদের হাতে গেছে, তা-ই বা কে জানে? সেই অপশক্তি ও তাদের বিদেশি মদদদাতারা এখনো নানাভাবে জঙ্গিবাদ বিস্তারে সক্রিয় রয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন সব বিদেশি প্রতিষ্ঠান, এনজিও বা ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান নিচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি এনজিও বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধও হয়েছে। জানা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন জামায়াতের লোকজন। তাদের পরিচালিত আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হয়, বিদেশ থেকে আসা এসব অর্থের একটি বড় অংশই চলে যায় জঙ্গিদের কাছে। পরে ভুয়া বা বর্ধিত ব্যয় দেখিয়ে হিসাবে গোঁজামিল দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ণয়ে অভিজ্ঞ অডিট ফার্ম দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক বছরের হিসাব পুনঃতদন্ত করা প্রয়োজন।

সরকার জঙ্গি দমনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু জঙ্গিদের ‘লাইফ লাইন’ বা অর্থের জোগান বন্ধ করতে না পারলে এসব পদক্ষেপ আশানুরূপ ফল দেবে বলে মনে হয় না। আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদের অর্থায়ন বন্ধ করতে দ্রুত ও সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here