এবার ইউরোপকে বোমার ভয় দেখাল ইরান

0
48

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের উপপ্রধান বলেছেন, ইউরোপ ইরানকে হুমকি দিলে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের ওপরে বাড়াবে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপকে এমন হুশিয়ারি দিল ইরান। শনিবার ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক সংবাদের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নিয়ে দেশটির সঙ্গে ‘আপসহীন’ সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইরানের পরমাণু চুক্তির বাইরে একটি সমঝোতা প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলেছে ফরাসি সরকার। কিন্তু ইরান বারবার বলে আসছে, তাদের পরমাণু কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ এবং এ নিয়ে কোনো দেনদরবার চলবে না।

ইরানের রেভোলুশনারি গার্ডের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের উপরে উন্নীত করি, তাহলে তাতে আমাদের প্রযুক্তির অভাব হবে না। আমরা একটি কৌশলগত নীতি অনুসরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘ইউরোপকে এখনও আমরা হুমকি মনে করি না, যে কারণে আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াইনি। কিন্তু ইউরোপ যদি হুমকি হতে চায়, তাহলে আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লাও বাড়াব।’

ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর সামরিক ইউনিটের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফারি গত মাসে বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থান ও বাহিনী, ইরানের ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে তা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই ইরানের।’ তিনি আরও বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা নির্ধারণ করে থাকেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনাকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলে আঘাত হানতে সক্ষম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জুলাই মাসে সৌদি আরবে হামলা চালায় ইয়েমেনের শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা।

এর মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করার জন্য ইরানকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানায় মার্কিন কূটনীতিক। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। হোসেইন সালামি বলেন, ‘সবদিক থেকে ইয়েমেন অবরুদ্ধ।

আমরা কীভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারি?’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যদি ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে পারে, এতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অক্ষমতা ধরা পড়ে। তার পরও বলছি, আমরা তাদের কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেইনি।’ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। কেননা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে পরমাণু বোমা বহন করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here