এক পক্ষের বর্জনের মুখে নিউইয়র্কে ২৩০০ প্রবাসীর বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ

0
281

08082016_03_USBNPনিউইয়র্ক থেকে : এক পক্ষের বর্জনের মধ্যেই এক ডলার ফি’র বিনিময়ে বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করলেন নিউইয়র্ক সিটির ২৩০০ বাংলাদেশী। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির নির্বাচন উপলক্ষে সদস্য সংগ্রহ করার শেষদিন ছিল ৭ আগস্ট রোববার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম আজিজ রোববার গভীর রাতে এনআরবি নিউজকে জানান, ‘এই প্রথম বিএনপির নেতা-কর্মীরা নগদ অর্থের বিনিময়ে সদস্য পদ গ্রহণ করলেন এবং এদের উপস্থিতিতেই ১৩ আগস্ট শনিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

উল্লেখ্য, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গঠিত হয়েছে শতাধিক সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি। স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য-সচিব গিয়াস আহমেদ জানান, ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী গঠনতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী নিউইয়র্ক স্টেট কমিটি গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানতে চায় না, তারাই বিরোধিতা করছেন।’ নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, স্টিয়ারিং কমিটির কর্মকর্তা আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ স¤্রাট, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, কাজী আজহারুল হক মিলন, মঞ্জুর চৌধুরী, পারভেজ সাজ্জাদ, এম এ সবুর, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনিসহ প্রায় সকলেই সদস্য পদ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছেন।

অপরদিকে নির্বাচনের এ প্রক্রিয়ার বিরোধিতাকারিরা ৭ আগস্ট রোববার রাতে জ্যাকসন হাইটসে পালকি চায়নিজ সেকশনে এক সমাবেশে মিলিত হন। এ সময় বিএনপি নেতা আকতার হোসেন বাদল অভিযোগ করেন যে, ‘দীর্ঘদিন যাবত সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সক্রিয় নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপিকে অবজ্ঞা আর উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হলে কোন সমস্যা হতো না। এর ফলে ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে আজ অবধি বিএনপির সকল কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারিরাও উৎসাহিত হতেন।’ এ সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ডা. মজিবর রহমান মজুমদার, ইলিয়াস মাস্টার, জিল্লুর রহমান, জসীম ভ’ইয়া, হেলালউদ্দিন, ফিরোজ আলম, সাইফুল খান আরিফ, নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস সেক্রেটারি রুহুল আমিন নাসির, আলম মৃধা, আশরাফ হোসেন প্রমুখ।

প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে মাওলানা অল্উিল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘তারেক রহমানের দোহাই দিয়ে কেউ কেউ দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। একইসাথে কাউন্সিল অধিবেশনের নাটক মঞ্চস্থ করে নিজেদের পকেট ভারি করার পন্থাও অবলম্বন করা হয়েছে।’

এদিকে, সদ্য ঘোষিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজনকেও অন্তর্ভুক্ত না করায় এক ধরনের বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন সকলে। এই সভার বক্তারা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, ‘মূল্যবান সময় এবং কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে যারা বিএনপির পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টির জন্যে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন, তাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে না নেয়া পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কেউ এলে তাদের নিয়ে সভা-সমাবেশ দূরের কথা কোন সহযোগিতাও দেয়া হবে না।’ বক্তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সউদি আরবের চেয়ে সকল ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও লন্ডন থেকে ৬, মালয়েশিয়া থেকে ২ এবং সউদি আরব থেকেও ২ জনকে রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে।’ নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন যে, আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ স¤্রাট, জিল্লুর রহমান, আকতার হোসেন বাদলকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেয়া হবে। কিন্তু একজনেরও নাম না দেখে সকলেই ক্ষুব্ধ, ব্যথিত এবং হতাশ।