একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, আরও ৫শ মে. বিদ্যুৎ আসছে ভারত থেকে

0
22

ঢাকা: ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে চলেছে সরকার। এ বিদ্যুৎ আসবে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম থেকে। ত্রিপুরা রাজ্যের সূর্যমণিনগর থেকে বিদ্যুৎ আনা হবে এ দেশের কুমিল্লাতে। এরপর তা সঞ্চালন করা হবে জাতীয় গ্রীডের মাধ্যমে।

এজন্য ‘কুমিল্লার উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এক হাজার ৩৪২ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পসহ মোট ১৩ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবারের অনুমোদন পাওয়া প্রত্যেকটিই নতুন প্রকল্প। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে নয় হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ছয় হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৭১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে দুই হাজার ৫৯২ কোটি খরচ করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উৎপাদনের চেয়ে আমদানিতে খরচ কম হলে সরকার অবশ্যই আমদানি করবে। কারণ সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের কম খরচে বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে। এজন্য ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ভারত থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে, এর মধ্যে ত্রিপুরা থেকে আসছে ১৬০ মেগাওয়াট। মূলত আমদানি সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন করে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এখন থেকে দুই এবং তিন ফসলের জমি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজে লাগানো যাবে না। এক ফসলী জমি হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যেতে পারে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ড্রেজিং করে হলেও দেশের সবগুলো নদীবন্দর আবার চালু করতে হবে। কারণ ভারত ও নেপালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেছে। নদীবন্দরগুলো চালু হলে পরিবহন খরচ কমবে এবং সড়ক পথের ওপর চাপ কমবে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচ প্রকল্প। ১০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। কৃষি অর্থনীতি আরও সক্রিয় করতে এবং রফতানি আয় বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সল্ফপ্রসারণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগরবাড়ীতে নদী বন্দর নির্মাণ ও ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ডাক বিভাগের সেবা দ্রুত ও গতিশীল করতে মেইল প্রসেসিং ও লজিষ্টিক সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন করেছে। দেশের নাগরিকদের নিরাপদ, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং এ্যাসেস টু সার্ভিসেস ( আইডিএ) প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

৯৫টি জেলা মহাসড়কের মানোন্নয়ন : সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট জোনের ৩২টি জেলার ৯৫টি সড়কের মান ও প্রশস্ততা উন্নয়নে আলাদা আলাদা পাঁচটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনেকদিন ধরেই সরকার সড়কের মানোন্নয়নে কাজ করছে। জেলা সড়কগুলোকে সংস্কার করে আরও চওড়া করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here