এই রোডম্যাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না: ফখরুল

0
21

fakhrul-bg_308603ঢাকা: একাদশ নির্বাচন নিয়ে চলমান সংকট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপে সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার (রোডম্যাপ) পর বিকেলে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকার দরকার। এই মুহুর্তে সেই সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা বড় প্রয়োজন প্রয়োজন। আলোচনা না করে এই রোডম্যাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, চলমান সংকটের নিরসন হবে না। রোডটা তো থাকতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত রোডই দেখতে পারছি না। ম্যাপ তো পরের প্রশ্ন।

তিনি বলেন, এটা যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। লন্ডনের অবস্থানরত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ঢাকায় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

রোববার আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগে ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে দশম সংসদের মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

এক প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন যদিও রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন, এটা প্রধান বিষয় না। এটা প্রধান সংকট নয়। প্রধান সংকটটা হচ্ছে নির্বাচনটা কিভাবে হবে? নির্বাচনের সময় সরকার কোন জায়গায় থাকবে, সরকারের ভূমিকা কি থাকবে।  নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে? এজন্যই বারবার বলা হচ্ছে নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকারের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আগে বিএনপির বক্তব্য দেয়া হয়েছে। এখানে আলোচনা ছাড়া সংকট সমাধান হবে না। তাই নির্বাচন কমিশন এককভাবে একটি রোডম্যাপ দিয়ে দিলেই হলো না। আলোচনা ছাড়া রোডম্যাপ ঘোষণা করলেই সমাধান হবে না।

নির্বাচন কমিশন বলেছে দেশ-বিদেশের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে এই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই বলছে উদ্দেশ্য খুব ভালো। বর্তমান সরকারও বলছে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই, সহায়তা করতে চাই। তারপরও দেখা যাচ্ছে দেশের মধ্যে কি অবস্থা আছে।

তিনি বলেন, বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল সভা করার অনুমতি পায় না। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলেন। তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই হলো বিরোধী দলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সরকার এরকম একটা পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অবস্থায় দেশে নির্বাচনের আদৌও কোনো পরিবেশ আছে কিনা সেটাতো সবার আগে দেখা দরকার।

নির্বাচন কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয় বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সে ব্যাপারে গণতান্ত্রিক যতগুলো পদ্ধতি আছে এবং নিয়মতান্ত্রিক যতগুলো পদ্ধতি আছে সবগুলোই কাজে লাগাতে হবে। মূলত গণতান্ত্রিকভাবেই বিএনপি আগাতে চায়। তবে এটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সদিচ্ছার ওপর। তারা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় দিবে কিনা।

ব্রিফিংয়ের সময় বিএনপির অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here