উ. কোরিয়ার ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপের’ জন্য তৈরি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

0
12

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক মাইক পম্পেও সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছেন, মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে উত্তর কোরিয়া। তবে এ হামলা প্রতিহতের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এজন্য ওয়াশিংটন কূটনীতি এবং নিষেধাজ্ঞাকে প্রাধান্য দিলেও বিকল্প হিসেবে সামরিক বাহিনী রয়েছে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন পম্পেও।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের এক নিরাপত্তা ফোরামে এ কথা বলেন তিনি।

বিবিসি জানায়, উত্তর কোরিয়া অবশ্য বহু আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করে আসছিল। কিন্তু এতদিন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনো মন্তব্য করেননি।

পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক সময়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে এবার সিআইএ প্রধান নিজেই আশঙ্কার কথা বললেন। পম্পেও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া এখন পরমাণু বোমা হামলার সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের উচিত তাদের এ চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা প্রতিহত করার বিষয়ে চিন্তা করা।’

সিআইএ প্রধান বলেন, এখন কী ঘটবে বা এক মাসের মধ্যে যাই ঘটুক, এখন আমরা এমন একমুহূর্তে রয়েছি যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যাতে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে এজন্য আমাদের বৈশ্বিক প্রচেষ্টা রয়েছে।’

পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পিয়ংইয়ংয়ের বিশেষজ্ঞরা দ্রুতই করছেন জানিয়ে পম্পেও বলেন, ‘তাদের ত্বরিত কার্যক্রমের কারণে এটা বোঝা মুশকিল যে কখন উত্তর কোরিয়া সফল হয়ে যাবে।’

এর আগে যুক্তরাস্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিয়ংইয়ংয়ের একটি পরমাণু হামলা গ্রহণ করতেও রাজি নন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ মন্তব্যের একদিন পর সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ ভাগ।

এদিকে কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থানরত মার্কিন এয়ারক্রাফটবাহী রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যানকে হামলার ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে হুশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

দেশটির কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ওয়াশিংটনের উচিত ‘এক অকল্পনীয় হামলার’ জন্য অপেক্ষা করা। কোরীয় উপদ্বীপে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ নৌ-মহড়ার মধ্যেই এ হুমকি দিল পিয়ংইয়ং। এছাড়া ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ‘উম্মাদ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেছে কেসিএনএ।

আলজাজিরা জানায়, কোরীয়া উপদ্বীপে সিউল ও ওয়াশিংটনের এ নৌ-মহড়াকে ‘যুদ্ধের জন্য অনুশীলন’ বলেও উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। তবে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক ডাল্টন বলেন, মহড়ার মাধ্যমে আমরা এটি পরিষ্কার করতে চাই যে, উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে নজিরবিহীন এক চিঠি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং সুপ্রিম অ্যাসেম্বলির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি স্বাক্ষরিত এক পৃষ্ঠার চিঠিটি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর কোরীয় দূতাবাস থেকে ক্যানবেরার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বৃহস্পতিবার চিঠিটি পাওয়ার কথা জানান। অন্যান্য দেশেও এরকম চিঠি পাঠানো হতে পারে বলেও তার সন্দেহ।

একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পরমাণু পরীক্ষার কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর দেয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ কাজ করছে- চিঠিটি তার স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে লেখা চিঠিটিকে ‘মামুলি গলাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

টার্নবুল জানান, “চিঠিতে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের জঘন্য ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অন্যান্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ভয়াবহ পরমাণু ধ্বংসযজ্ঞের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে বলেও এতে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।”

টার্নবুলের অভিযোগ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে পিয়ংইয়ং এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় রেডিও স্টেশন থ্রিএডব্লিউকে টার্নবুল বলেন, ‘তারা সার্কুলারের মতো এই ধরনের চিঠি আরও অনেক দেশে পাঠিয়েছে।’

উত্তর কোরিয়ার এই চিঠিকে ‘অকল্পনীয়’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here