উত্তর কোরিয়া সংকট, চীনের বোমারু বিমান উচ্চ সতর্কতায়: যুক্তরাষ্ট্র

0
125

china_45338_1492812651আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এমন বোমারু বিমানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে চীন।

উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেইজিং এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চীন বিপুলসংখ্যক জঙ্গিবিমান পূর্ণ প্রস্তুত রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আক্রমণে যাতে সময়ক্ষেপণ না হয় চীনের এই পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওই সময় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে নতুন করে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বেইজিংয়ের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয় সে দিকে লক্ষ্য রাখছে চীন।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা ও চীন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির হুমকি সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া পরপর বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং যে কোনো সময় একটা সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও পিয়ংইয়ং তাদের কথায় উত্তেজনার পারদ চড়ায়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার এক হুশিয়ারি দিয়ে বলে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক হামলা চালাবে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ‘এক নিমিষে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

’ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার এই সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, কিম জন উনের পতন হলে কোরীয়দের একটি বড় অংশ চীনের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরীয় সরকারের অধীনে দুই কোরিয়ার একত্রীকরণ ঘটতে পারে। আর এ কারণেই দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে চীন। সম্প্রতি থার্ড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও সিউল একমত হলে বেইজিং এর প্রতিবাদ করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। আর এ কারণেই উত্তর কোরিয়া সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বেইজিং উদাসীন। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমেরিকা সফরকালে পিয়ংইয়ংয়ের অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে সামরিকভাবে চাপ প্রয়োগ কিংবা দেশটির শাসককে চীন করজোড়ে দাঁড় করাবে এ বিষয়টি কেউ ভাবছে না। তবে অন্য কিছুর চাইতে রাজনৈতিক সমাধানের কৌশলকেই প্রাধান্য দিচ্ছে চীন।’

সেনা মোতায়েনের খবর নাকচ রাশিয়ার : কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। খবর এপির। বৃহস্পতিবার ডেইলি মেইল জানায়, উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনী আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটির সঙ্গে রুশ সীমান্তে সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিনের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কিম জন উনের উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালান, তাহলে দেশটির নাগরিকদের একটা বিশাল অংশ শরণার্থী হয়ে রাশিয়ায় ঢুকে পড়তে পারে।

তবে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য সামরিক জেলার মুখপাত্র অ্যালেক্সান্ডার গর্দেয়েভ ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, ভারি সমরাস্ত্র চলাচলে যে ভিডিও সামাজিক গণমাধ্যমে এসেছে তা নিয়মিত মহড়ার অংশ। এগুলো নিয়মিত মহড়া শেষে ফিরছিল। মস্কোতে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ফ্রান্টস ক্লিনটটসেভিচ রিয়া নভোস্তিকে বলেন, সেনা চলাচল ছিল পরিকল্পিত। তবে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না।