ইয়েস, আমি প্রস্তুত…

0
12

২০১৭ সাল কেমন গেল?

গত ছয়টা বছর আমি আমার মাতৃত্বকে এনজয় করেছি। মেয়েটাকে ছাড়া নিজেকে নিয়ে কোনো প্ল্যান করিনি। কাজ করেছি কিন্তু কোনো প্ল্যান ছাড়াই। গেল বছর প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ছিলাম, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। ২০১৭ সাল আমার জীবনের সবচেয়ে বিষণ্ণতম বছর। এ বছরই আমি নিজের এই দীর্ঘ বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খোঁজার চেষ্টা করি।

নতুন বছর কাজের পরিকল্পনা কী?

মাত্র তিন মাস আগে আমি নিজেকে নিজে সকাল-সন্ধ্যা শুধু প্রশ্ন করতে লাগলাম। এ বছর আমি মিডিয়াকে আসলে কী দিলাম? দাগ কাটার মতো কোনো কাজ করেছি কি? কোনো সদুত্তর খুঁজে পাইনি। অথচ আমি বাঁধন তো এই মিডিয়া থেকে কম কিছু পাইনি। তা হলে এবার আমাকে কিছু দেয়া উচিত। এ ভাবনা থেকে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। পথ খুঁজতে থাকলাম নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে। এমন কিছু কাজ করে দেখাতে- যার মাধ্যমে শুধু আমি নই, মিডিয়াটাও যেন উপকৃত হয়। মনে হল, এখনই সময়। শুরু করলাম ডায়েট আর জিম দিয়ে। ওজন কমালাম ১২ কেজি! এরপর ভাবলাম এবার নিজের একটা পোর্টফোলিও তৈরি করা দরকার।

নতুন বছরে নিজেকে তুলে ধরার জন্য আলাদা ফটোশুট করেছেন। এটা কেন?

২০১৭ সালের শেষ প্রান্তে এসে টানা শুট করলাম। চেষ্টা করলাম নতুন বছরে নতুনভাবে আমাকে তুলে ধরার। যার মধ্যে রয়েছে ডন লুক, স্পোর্টি লুক, শাড়ি ফিউশন, বৌ লুক, ওয়েস্টার্ন লুক ও বাঁধন লুক! একটি ছবি এর মধ্যে প্রকাশও করেছি। বাকিগুলো করব পর্যায়ক্রমে। এ বিভিন্ন ধারার লুকের মাধ্যমে আমি জানাতে চাই, ইয়েস, আমি প্রস্তুত। একেবারেই নতুন করে কাজ করতে চাই। যে কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষুধা বোধ করেছি।

তা হলে বলতে চাচ্ছেন এগারো বছরের ক্যারিয়ারে তৃপ্তি পাওয়ার মতো কোনো কাজ করতে পারেননি?

তেমনটিই মনে হয় আমার। তবে এবার নেমেছি। সবার সহযোগিতায় এবার অভিনয়ের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারব। দর্শকদের নতুন কিছু দিতে পারব।

গত বছর বেশ বিষণ্ণতা আর কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। পরিস্থিতিটা কাটিয়ে কাজে ফিরছেন কিসের অনুপ্রেরণায়?

অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য থেকে এখন ভালো পরিস্থিতি তৈরি করেছি। এ জন্য মিডিয়ার সবার কাছে কৃতজ্ঞ। অনেকে বলে মিডিয়ায় কেউ বন্ধু হয় না। আমি বলব এটা ভুল। মিডিয়ার সবার সাপোর্ট আর সহযোগিতায় আমি কঠিন পরিস্থিতি ওভারকাম করতে পেরেছি। তবে এ ক্ষেত্রে আমার মা-বাবার ভূমিকা সবার আগে। আর আমার কাজে ফেরার শক্তি হচ্ছে আমার সন্তান। ওর দিকে তাকিয়েই সব করতে পেরেছি এবং এখন করছি।

আপনার নামে তো অনেক নির্মাতা অভিযোগ তুলেন। শুটিং শেষ না করে সন্ধ্যা হলেই আপনি বাসায় ফিরতে তাড়া দেন। এ জন্য তাদের অনেক ক্ষতি হয়। এটা কীভাবে ব্যখ্যা করবেন?

দেখুন, গত বছর আমার সময়টা খারাপ গেছে। আমার মেয়েটা ছোট ছিল। তাই শুটিংয়ে গেলে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে হতো। এ ছাড়া আমার সমস্যাগুলো তারা জানতেন না। শুটিং থেকে আগে বাসায় যেতাম এ জন্য অনেক নির্মাতা আমার ওপর মন খারাপ করতে পারেন। তবে এ বছর মেয়ে বড় হয়েছে। পারিবারিক ক্রাইসিস থেকে আমিও মুক্ত হয়েছি। এখন অনেকটা ফ্রি হয়েই কাজে মনোযোগ দেব। তবে সবার আগে আমার সন্তান। তারপর কাজকে প্রাধান্য দেব।

সিনেমাতে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে কি?

অবশ্যই আছে। আমার সঙ্গে যে ধরনের চরিত্র যায় সে ধরনের ছবির প্রস্তাব এলে অবশ্যই অভিনয় করব। এ ক্ষেত্রে অফট্রাক আর কমার্শিয়াল হিসাব করব না। আগে দেখব চরিত্রটি আমার সঙ্গে যাবে কিনা।

অভিনয়ের বাইরে আর কী করার ইচ্ছা রয়েছে?

আমি যে ধরনের সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি সে ধরনের সমস্যায় পতিত মেয়েদের পাশে থাকতে চাই। এ ছাড়া আমি বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির নির্বাচিত সদস্য। এখানে যুক্ত হয়ে নানা মানবহিতৈসী কাজ করে থাকি। এখন থেকে এখানে কাজের পরিমাণ আরও বাড়াব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here