‘ইসরাইল সৃষ্টির জন্য ক্ষমা চাইতে পারত ব্রিটেন’

0
116

d3d0a3eআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টিতে সহায়তা করায় ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা চাইতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের লেবার দলের রাজনীতিক রূপা আশা হক। লন্ডনের ডেইলি মেইল আজ (রোববার) এক সংবাদে এ কথা জানায়। গত দুমাসে ইসরাইল ইস্যুতে বক্তব্য দেয়ার জন্য যখন ব্রিটেনের লেবার দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে বহিষ্কার করা হলো তখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুপা হকও এ ধরনের সাহসী বক্তব্য দিলেন।

তিনি লন্ডনের এইলিং প্রশাসনিক এলাকার জন্য লেবার দলের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডেইলি মেইল জানায়, গত বছর ফিলিস্তিনি সংহতি প্রচারাভিযানের সময়ও এক সভায় রুপা হক ব্রিটিশ সরকারকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।ইসরাইল সৃষ্টির বিষয়ে লন্ডনের ক্ষমা চাওয়ার উচিত কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে রূপা হক বলেছিলেন, ‘১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ইসরাইল সৃষ্টি হয়েছিল। আমার মনে হয় ক্ষমা চাওয়া উচিত। আপনি সেটা করতে পারেন। সম্ভবত লেবার দল ক্ষমতায় গেলে সেটা করতে পারে। ক্ষমা চাইলে তা আবার সমালোচনার বিষয়ে পরিণত হবে। ঐতিহাসিক এ বিষয়টি সামনে এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।’

বর্ণবাদ ও ইহুদিবাদ বিরোধী অবস্থান নেয়ার কারণে গত দুই মাসে লেবার দল থেকে ৫০ জনের বেশি রাজনীতিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মাসে দলের প্রধান করবিন বলেছেন, বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং দলের ভেতরে যাতে কোনো ধরনের বর্ণবাদের চর্চা না হতে পারে সেজন্য তিনি আচরণবিধি চালুর প্রস্তাব করবেন।

ইসরাইলকে আমেরিকার কোনো এলাকায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা দরকার এমন বক্তব্য দিয়ে এমপি নাজ শাহ মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তখন নাজ শাহের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রুপা হক। তবে নাজ শাহ মারাত্মক চাপের মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।

লেবার দলের খ্যাতিমান ব্যক্তি হওয়ার পরও লন্ডনের সাবেক মেয়র কেইন লিভিংস্টোন একই পরিণতি হয়। তিনি নাজ শাহকে সমর্থন করেছিলেন এবং হিটলারকে ইহুদিবাদী বলেছিলেন। লিভিংস্টোন সম্প্রতি আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল-ক্বাদ আল-আরাবিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টি করাই মৌলিকভাবে ভুল হয়েছে। কারণ সেখানে ২,০০০ বছর ধরে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় বসবাস করে আসছে।’
১৯৪৮ সালে অবৈধ ইসরাইল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আরব অঞ্চলে ইসরাইলকে সম্প্রসারিত করা হয়। এসব অভিযানের মাধ্যমে লেবাননের শেবা ফার্ম ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে নেয় ইসরাইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here