ইরানে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

0
6

iran_47528_1495169867আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং কট্টরপন্থী ধর্মগুরু ইব্রাহীম রাইসির মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬৮ বছর বয়সী রুহানির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকলেও সর্বশেষ জনমত জরিপে ৫৫ শতাংশের সমর্থন পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাইসির চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। খবর এএফপির।

প্রেসিডেন্ট রুহানির আমলে ২০১৫ সালে পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম পরানোর চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। এ চুক্তির মাধ্যমে বহির্বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ইরানকে টেনে তুলতে চেষ্টা করেছেন রুহানি। ওই চুক্তিকে ইরানের মানুষ কীভাবে দেখছেন, নির্বাচনে তারও পরীক্ষা হবে।

তবে রুহানির বিরোধীদের দাবি, ওই চুক্তিতে লাভের লাভ হয়নি কিছুই। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠলেও মার্কিন প্রশাসনের হুমকি বন্ধ হয়নি।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পরমাণু চুক্তি ভেঙে ফেলার পক্ষে রাইসি। ৫৬ বছর বয়সী রাইসি বলেন, ‘কোনো শত্রুর কাছে আমাদের দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়।’ নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয় প্রার্থীই বুধবার ব্যস্ত সময় কাটান। এদিন তারা দু’জনই ইরানের খোরাসান রাজাভি প্রদেশের রাজধানী মাশহাদে পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

ভোটারদের উদ্দেশে তারা অনগ্রসরতা দূর, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তেল সম্পদের বিষয়ে নিজেদের কর্মসূচি তুলে ধরেন। রুহানি তার সমাবেশে কনসার্টের অনুমোদন দেন।

এবারের নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী ছিলেন। তবে সোমবার তেহরানের মেয়র মোহম্মদ বাগের গলিবাফ সরে দাঁড়িয়ে রাইসির পক্ষ নেন।

অন্যদিকে সংস্কারপন্থী এসহাক জাহাঙ্গিরি সরে দাঁড়িয়ে রুহানির প্রতি সমর্থন জানান। স্বাভাবিকভাবেই লড়াইয়ের শেষ লগ্নের এ প্রাপ্তি দুয়ের পাল্লা একটু ভারি করছে। সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, রাইসির চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন রুহানি।

ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৭২ শতাংশ ভোটার অংশ নেবেন। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রেজা রাহমানি ফাজলি বলেন, শুক্রবারের প্রেসিডেন্ট ও সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাড়ে তিন লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সারা দেশে ৬৩ হাজার ৪২৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ভোট গ্রহণ দ্বিতীয় রাউন্ডে গড়াবে। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী লড়বেন শেষ পর্বের ওই নির্বাচনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ২৬ মে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY