ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের তথ্য ফাঁস

0
124

4bk6c65aea53739d1p_800C450আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন সংবাদ-মাধ্যম ‘নিউজ ভাইস’ জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ নরম-যুদ্ধের লক্ষ্যে কিছু বিনোদন-সামগ্রী তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

এর আগও এই সংবাদ মাধ্যমটি গত এক বছরে ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিবেদনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার অন্তত ২২টি প্রকল্পে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার খবর ফাঁস করেছে। এইসব বিনোদন সামগ্রীর নির্মাতারা সিআইএ’র কাছ থেকে বাজেট বা অর্থ নিয়েছে।

ইরান-বিরোধী ছায়াছবি ‘আরগু’ নির্মাণে সিআইএ’র ভূমিকা ফাঁস হওয়ার পর এখন মার্কিন কংগ্রেস হলিউডের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্পর্ক স্পষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির প্রধান রিচার্ড বুর এবং এই কমিটির সিনিয়র ও ডেমোক্রেট সদস্য ডিয়ানে ফিনষ্টাইন গত মাসে পাস হওয়া গোয়েন্দা-বাজেট বিলের সঙ্গে এই সম্পূরক প্রকল্পটিও জুড়ে দিয়েছেন। এরই আলোকে মার্কিন গোয়েন্দা-প্রধান প্রতি বছরই হলিউডের সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-সহ ১৬টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বাধ্য|

ফাঁস-হওয়া নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা গেছে সিআইএ ইরান-বিরোধী ছায়াছবি ‘আরগু’ নির্মাণে জড়িত কলাকুশলীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে যাতে ইরান সম্পর্কে এই সংস্থার পছন্দের চিত্রগুলো সত্যিকারের ঘটনাভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য একটি ছায়াছবির মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা যায়।

ইরান-বিরোধী ছায়াছবি আরগুতে সিআইএ’র একটি অভিযানের কাহিনী প্রচার করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে গুপ্তচরবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত মার্কিন দূতাবাসের ছয় জন কথিত কূটনীতিককে উদ্ধারের জন্য চালানো হয় ওই অভিযান। সেই ৬ ‘কূটনীতিক’ গোপনে আশ্রয় নিয়েছিল তেহরানে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে। ‘চেহারা বদলানোর ওস্তাদ’ নামের একটি বই হচ্ছে এই কাহিনীর উৎস। বইটি লিখেছেন সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা টনি মেন্ডেজ।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সিআইএর সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই ’৫০-এর দশকেই এই সম্পর্কের গোড়া-পত্তন হয়েছিল। তবে ওসামা বিন লাদেনকে গ্রেপ্তার অথবা হত্যার গোপন অভিযান সম্পর্কিত থার্টি আওয়ার্স আফটার মিডনাইট বা ‘মধ্য রাতের ত্রিশ মিনিট পর’ শীর্ষক প্রামাণ্য ছায়াছবি প্রকাশের পরই এই সম্পর্কের ওপর যথাযথ আলোকপাত করা হয়েছে। ছায়াছবিটি প্রকাশের পর এটা ফাঁস হয় যে এর দুই নির্মাতা সিআইএর তৎকালীন প্রধান লিওন পেনেট্টার নির্দেশে সিআইএর অসাধারণ নানা সুযোগ-সুবিধা বা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন।

আসলে ‘আরগু’, ‘থার্টি আওয়ার্স আফটার মিডনাইট’, সিক্রেট এয়ারলাইন অফ সিআইএ বা ‘সিআইএর গোপন এয়ারলাইন’ ও সিক্রেট ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম বা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ’ শীর্ষক হলিউডের প্রামাণ্য ছায়াছবিগুলো একই লক্ষে তৈরি হয়েছে সিআইএর তত্ত্বাবধানে। আর এই লক্ষটি হল নরম যুদ্ধ। এই যুদ্ধ হল বাস্তবতার খোলস ব্যবহার করে নানা কৃত্রিম ধারা গড়ে তোলার জন্য জনমত প্রভাবিত করার অন্যতম হাতিয়ার। হলিউডের ফিল্মগুলোকে এ কাজে খুব সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করা হয়।

পশ্চিমা ছায়াছবিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল বা পশ্চাৎপদ, গোঁড়া, সন্ত্রাসের সহযোগী এবং এ জাতীয় নানা নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। আসলে ইরান সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়াতে ও ইরানের বদনাম করতেই হলিউডের নামী-দামী কোম্পানিগুলোকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘ফ্লাইট নাম্বার নাইনটি থ্রি’, ‘থ্রি হান্ড্রেডস’, ‘অ্যালেক্সান্ডার’, ‘দ্য লর্ড অফ উইশেষ’ ও ‘হস্টেজেস এন্ড ডেল্টাফোর্স’ শীর্ষক ছায়াছবিগুলো।

একই উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের ভিডিও গেম। যেমন, ডেজার্ট স্ট্রম বা মরুভূমির ঝড়। এখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও এ জাতীয় কেন্দ্রগুলোতে মার্কিন সেনারা ইরান নামক শত্রুর মোকাবেলা করছে বিজয়ের নায়কদের স্টাইলে!

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হওয়ার পর ইসলামী এই দেশটি সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর পশ্চিমা নীতির অবসান ঘটবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন। কিন্তু মার্কিন সরকারের নানা আচরণ ও কিছু ঘটনা-প্রবাহ থেকে বোঝা যায় ইরানের সঙ্গে শত্রুতা শেষ করতে চাইছে না সাম্রাজ্যবাদী এই সরকার। নতুন নতুন পন্থায় সেই পুরনো আধিপত্যকামী লক্ষ্যই বাস্তবায়নে সক্রিয় ওয়াশিংটন। ফলে এখন নরম ও রক্ত-ঝরানোর উভয় যুদ্ধেই আত্মরক্ষার জন্য তৈরি থাকা ইরানের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। খবর-রেতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here