ইতিহাস বিকৃতি আইনের প্রস্তাব সংসদে গৃহীত

0
82

anisul_law_minis_46374_1493913708ঢাকা: জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির বিধান রেখে আইন করার একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বেগম ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি এ সিদ্ধান্তের প্রস্তাব উত্থাপন করলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক প্রস্তাবটি গ্রহণের ঘোষণা দেন। পরে অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির বিধান রেখে একটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে আইনটি বর্তমান সংসদেই পাস করা হবে। এর আগে এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর ১০ জন সংসদ সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। পরে সংশোধনীগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার আরও ৩টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য শেষে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তুললে সেটিও গ্রহণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বাপ্পি বলেন, সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এখন প্রয়োজন গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন প্রণয়ন করা। বিশ্বের ১৭টি দেশে ‘হলোকাস্ট ডিনায়াল ল’ আছে।

মুদ্রাপাচার মামলায় কারাদণ্ড ও কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।

পরের বছর ডিসেম্বরে বিএনপি সমর্থক মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে একাত্তরে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ওই বক্তব্যের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় শহীদের সংখ্যা, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আÍত্যাগ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেন বিএনপির অনেক নেতা।

এ প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি উঠে।

আওয়ামী লীগের সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পিও সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ইতিহাসকে ম্লান করে দিতে চান।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলে পাকিস্তানিদের মতো তিনি মর্মাহত হন। শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন। এটি গর্হিত অপরাধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here