ইউরোপে অভিবাসন ঠেকাতে জাতিসংঘের বিশেষ বাহিনী!

0
130
পঞ্চ-দেশীয় এই প্রকল্পে নিয়োজিত থাকবে ৫ হাজার সেনা। প্রথম বছরেই তাদের জন্য ব্যয় হবে ৪০ কোটি ডলার * জি ফাইভ নামের এই যৌথবাহিনী আগামী বসন্তেই পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা
ইউরোপে মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও ইসলামী জঙ্গি দমনে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে জাতিসংঘ। সাহেল অঞ্চল থেকে লিবিয়ায় মানবপাচার বন্ধ ও সন্ত্রাস রোধে সোমবারই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। পাঁচ দেশীয় এই প্রকল্পে নিয়োজিত থাকবে ৫ হাজার সেনা। প্রথম বছরেই তাদের জন্য ব্যয় হবে ৪০ কোটি ডলার বা ৩২০০ কোটি টাকা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে ২০১৪ সালে সাহারায় মারা যায় ৩০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধি ঘটে ১০ হাজার জনের। জি ফাইভ নামের এই যৌথবাহিনী আগামী বসন্তেই পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা। ফ্রান্স ও ইতালি এ উদ্যোগে জোরালো সমর্থন দিচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত তহবিলের জোগান মিলছে না। পাঁচটি সাহেলভুক্ত দেশেই এটি সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে।

ট্রাম্প প্রশাসন এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে এবং এতে তহবিল জোগাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাহিনীর কমান্ডাররা বলছেন, প্রথম বছর তাদের ৪২ কোটি ৩০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এর অর্ধেকই এসেছে ইইউ থেকে। ব্রিটেন এ উদ্যোগে সমর্থন দিলেও কোনো অর্থ দেয়ার ঘোষণা দেয়নি। পশ্চিমা কূটনীতিকরা আশা করছেন, আমেরিকা শেষ পর্যন্ত তহবিল সরবরাহ করবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সহায়তায় ফ্রান্স সংশয়বাদী ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছে যে এ ধরনের উদ্যোগ জাতিসংঘের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হওয়া দরকার।

গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব দর্শক হয়ে থাকলে সাহেল অঞ্চলের এ সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সহিংসতার চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে লাখ লাখ মানুষ। আর চরম মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।

প্রকল্পের আওতায় বুরকিনা ফাঁসো, চাঁদ, মালি, মৌরিতানিয়া ও নাইজার সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারজুড়ে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ ও মানবপাচার রোধে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। উত্তর আফ্রিকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী দক্ষিণ ইউরোপে প্রবেশ করেছে। এতে ইউরোপ বিভক্ত হয়েছে, রাজনীতির মেরুকরণও ঘটেছে। ইইউ চাচ্ছে এ সমস্যা ফের উত্তর আফ্রিকায় ‘রফতানি’ করতে। এ জন্য লিবিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা, অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন এবং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। এরই মধ্যে এ বাহিনীর কাজ শুরু করেছে। এর সদর দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মালির মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারে।

সাহেলভুক্ত দেশগুলো এখন ইউরোপের বড় মাথাব্যথার কারণ। তাদের বর্তমান জনসংখ্যা ৭ কোটি ৮৪ লাখ। ২০৩০ সালে তা বেড়ে হবে ১১ কোটি ৮২ লাখ কিন্তু ২০৫০ সালে হবে ২০ কোটি ৪৬ লাখ। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়বে ২৫০% হারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্র্যের কারণে এ অঞ্চল জঙ্গিবাদী নিয়োগের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here