ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা, প্রাণহানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

0
347

233956sompa-1বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে এবারের নির্বাচন। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছয় ধাপে। এরই মধ্যে চার ধাপের ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা হয়ে গেছে। ২৮ মে শনিবার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হয়ে গেছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ছয় ধাপ মিলিয়ে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানের সংখ্যা ২২০।

এর আগে ১৯৮৮ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানের সংখ্যা ছিল ১০০। এবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সিংহভাগই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। প্রথম পাঁচ ধাপে শুধু দুজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতায় এটাও একটা রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি এবারের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনাও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের তৃণমূলের এই নির্বাচন সব সময় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে এলাকার মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনাও লক্ষণীয়। আবার স্থান বিশেষে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে থাকে। অতীতেও অনেক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সব নির্বাচনের আগে নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনেরও একটি পর্যবেক্ষণ থাকে। স্থানীয় প্রশাসনও এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। নির্বাচন কমিশন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও কেন্দ্রের তালিকাও করে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিবেচনায় রেখে কমিশনের তালিকা ধরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নির্বাচনী সহিংসতা যে অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তা ছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে ও প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন এসব দিক বিবেচনায় রেখেছে বলে মনে হয় না। প্রথম ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার পর পরবর্তী ধাপগুলোতে সহিংসতা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

কারণ নির্বাচনের সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশন যেভাবে পরিচালনা করবে, সেভাবেই কাজ করবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বাধার মুখে অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, চাপের মুখে ও বল প্রয়োগ করে অনেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর পরিস্থিতির আলোকে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবেই নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তায়। আমরা আশা করব, ইউপি নির্বাচন পরিচালনায় নিজেদের ব্যর্থতা পর্যালোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবে। দুর্বল ও ব্যর্থ নয়, আমরা একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here