ইইউ ছাড়লে বিপাকে পড়বে যুক্তরাজ্য

0
250
পাউন্ডের পতন ঘটবে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে এবং কর্মসংস্থান কমবে
পাউন্ডের পতন ঘটবে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে এবং কর্মসংস্থান কমবে

ঢাকা ডেস্ক: পাউন্ডের পতন ঘটবে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে এবং কর্মসংস্থান কমবেবিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী এবং মুদ্রা ব্যবসায়ী (কারেন্সি স্পেকুলেটর) জর্জ সরোস বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে এলে তা যুক্তরাজ্যের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এতে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের বিনিময় হার ব্যাপক হারে কমবে, কর্মসংস্থানে মারাত্মক ভাটা পড়বে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পোশাকসহ নিত্যপণ্যের দামে উধ্বগতি দেখা দেবে বলে দেশটিকে সতর্ক করেছেন তিনি।

জর্জ সরোস মনে করেন, যুক্তরাজ্য ব্রিক্সিট’ অ্যান্ড ‘এক্সিট’ বা ব্রিটিশ এক্সিট অব দ্য ইইউ, অর্থাৎ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিরিয়ে আসা) নিশ্চিত করলে যদি তার পরিণতিতে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) খুব বেশি কিছু করার থাকবে না।

ব্রিক্সিট নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে গণজোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে এই প্রশ্নটির মীমাংস হবে, ‘ব্রিটেনের কী ইইউর সদস্য থাকা, নাকি ইইউ ত্যাগ করা উচিত?

দ্য গার্ডিয়ানে এক লেখায় জর্জ সরোস বলেন, ১৯৯২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার তৎকালীন রক্ষণশীল দল ইউরোপের এক্সচেঞ্জ রেট মেকানিজম যা ইআরএম থেকে পাউন্ড প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যকে যে খেসারত যে খেসারত দিতে হয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে। সরোস মনে করেন, ব্রিক্সিট ভোটের ফলে যুক্তরাজ্যে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইড’এর ঝলক দেখা যেতে পারে। তবে এতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য সুফল পাবে না। বরং এর পরিণতিতে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড ষ্টার্লিংয়ের অবমূল্যায়ন ঘটবে, যা ১৯৯২ সালে দেখা গিয়েছিল।

যুুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে ক্রিসমাসের কেনাকাটা শুরুর দিনকে (চতুর্থ বৃহস্পতিবার থ্যাংকস গিভিং ডের পরদিন, যা ১৯৩২ সাল থেকে পালিত) ব্ল্যাক ফ্রাইডে এবং ১৯৯২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবারকে ব্ল্যাক ওয়েডনেসডে বলা হয়।

পাউন্ডের বিনিময় হার সর্বনিম্ন যেখানে থাকা উচিত সেখানে ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতায় অর্থাৎ আরও কমে যাওয়ার ব্রিটিশ সরকার ইজারএম থেকে সরে এসেছিল। তখন জর্জ সরোস পাউন্ড ষ্টার্লিংয়ের ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি পাউন্ড আয় করেছিলেন।
যারা ব্রিক্সিটের পক্ষে ভোট দেবেন তাঁদের উদ্দেশে জর্জ সরোস বলেন, এর ফলে ১৯৯২ সালের মতো এবারেও মুদ্রাবাজারের ফাটকা কারবারিরাই আর্থিকভাবে বেশি লাভ করবেন। আর অধিকাংশ ভোটারই বেশ গরিব হয়ে পড়বেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here