আস্থা নিতে পারছেন না কূটনীতিকরা

0
87

fbbঢাকা: বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় বিদেশিরা টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। প্রায় একবছর ধরে বাংলাদেশ সরকারকে তারা নিরাপত্তা বিষয়ে তাগিদ দিয়ে আসছেন। এসব হামলায় বিদেশিরা টার্গেট হতে পারেন বলেও বিভিন্ন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এখন তারা আশঙ্কা করছেন আরো হামলা হতে পারে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। বিদেশি কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর এখন ‘নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ রয়েছে তা বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। ফলে কূটনীতিকরা গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর বিভিন্ন দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ কোনো কোনো দূতাবাস ও হাইকমিশন তাদের বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি চেয়েছে। ইতালি ও জাপানসহ কিছু দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে তাদের কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প ও নানা ক্ষেত্রে কর্মরত নাগরিকদের বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। এ বিষয়ে এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট শিনিছি কিতাওকার ঢাকা সফর স্থগিত হওয়ার নেপথ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়াও রয়েছে দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতা। দুই দিনের সফরে ৬ আগস্ট তার ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে তিনি আসবেন না বলে জানিয়েছে জাপান দূতাবাস।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ঢাকার জাপান দূতাবাস গত ১৪ জুলাই চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের অস্ত্র বহনের অনুমতি’ চেয়েছিল। কিন্তু ‘বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের অস্ত্র বহনের অনুমতি’ দিতে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ। এটা সম্ভবও নয় বলে জানা গেছে।
যদিও জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার (জাইকা) ঢাকা কার্যালয় এবং সারাদেশের প্রকল্পগুলোতে জরুরিভিত্তিতে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশি পাহারা দিচ্ছে। জাইকার পাশাপাশি জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাহায্য সংস্থায় কর্মরত সে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারকে বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এমন কথা ঠিক নয়।এ ঘটনার পর বরং দেশে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here