আসন্ন ভারত সফর ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতাকে বসানোর পরিকল্পনা মোদির’

0
114

bd_ind_42578_1489981786নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাতে চলেছে কেন্দ্র। তিস্তা চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে মমতা ব্যানার্জিকে শেখ হাসিনার মুখোমুখি করতেই এ পরিকল্পনা করছেন নরেন্দ্র মোদি।

এক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে দিয়ে মমতা ব্যানার্জিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তাবায়িত হলে এ সফর বাড়তি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। রোববার আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

এবারের ভারত সফরে শেখ হাসিনা প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন। সেখানেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একসঙ্গে বসানোর পরিকল্পনা চলছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রণব মুখার্জির জ্ঞানের ওপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যথেষ্ট ভরসা রয়েছে বলে ওই দেশের একাধিক কর্মকর্তা জানান। তারা বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে যেমন, তেমনি মমতার সঙ্গেও রাষ্ট্রপতি প্রণব ?মুখার্জির ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আর সেটাই কাজে লাগাতে চান নরেন্দ্র মোদি।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার সফরকালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাবে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এ তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও রয়েছে মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে হাসিনা-মমতার সম্ভাব্য বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উত্তরপ্রদেশে বিপুল জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি এখন অনেক বলীয়ান। তিস্তার পানিবণ্টন প্রশ্নে মমতাকে নরম করার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে তার কাছে। এ কারণে ঢাকার প্রত্যাশাও বেড়েছে বহুগুণ। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত দিল্লি আসবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, হাসিনার সফরের এখনও খানিকটা দেরি আছে। এছাড়া আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও আসেনি। ফলে এ নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও হয়নি। তবে অনেকে বলছেন, বর্তমান সময়ে দিল্লি এসে হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর, এখনই তিস্তা চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি ঠিকই, কিন্তু দুই সরকারপ্রধানের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হবে। পাশাপাশি এ চুক্তিতে এতদিন দেয়াল তুলে রাখা মমতা হাসিনার মুখোমুখি বসলে অনেকটাই ইতিবাচক বার্তা দেয়া যাবে। এর আগে ২০১০ সালে হাসিনার দিল্লি সফরের সময়ও মমতা দিল্লিতে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। উপহারের শাড়ি সঙ্গে নিয়ে দেখা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। দিদি সম্বোধন করেছিলেন হাসিনাকে। পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও ৭ বছর আগের সেই ছবির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাইছে দিল্লি।

অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার চিন্তা : এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, তিস্তা চুক্তি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে সফল করতে বিকল্প চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে তিস্তা চুক্তি। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় বিকল্প হিসেবে অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ইন্সটিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিস অ্যান্ড এনালাইসিসের উত্তম কুমার সিনহা বলেছেন, ‘স্মার্ট কূটনীতি মানে আমরা তিস্তা চুক্তিতে স্থির থাকতে পারি না। কেননা এ চুক্তি সম্পূর্ণ কঠিন একটি বিষয়। ভারতকে অপরাপর বিকল্প চিন্তা করতে হবে। অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে অভিন্ন উদ্বেগ নিরসনে উপায় হতে পারে।’

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা শুধু ব্যাপক জনগোষ্ঠীর জন্য সেচের পানি দিয়েই এ অঞ্চলকে পরিবর্তন করতে পারে তা নয়, বরং নদীর নাব্য বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যে অভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। সিনহা বলেন, ‘যখন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভবিষ্যতের কথা মেনে নেবেন, তখন অনেক কঠিন কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে যৌথ নদী কমিশনকেও সক্রিয় করা প্রয়োজন। কেননা যৌথ নদী কমিশন পানিবণ্টন ইস্যু আলোচনার ভালো একটি প্লাটফর্ম।’

ভারতের সাবেক পানিসম্পদ সচিব শশী শেখর বলেছেন, ‘পানি হল রাজ্যের অধীন একটি বিষয়। তাই ভারতকে পশ্চিমবঙ্গের দৃষ্টিভঙ্গির কথা মনে রাখতে হবে। কেন্দ্রকে অবশ্যই হাইড্রোলজিক্যাল ডাটা উন্নয়নের কৌশল প্রণয়নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।’ তিনি বলেন, সঠিক ডাটা না পেলে রাজ্যকে আলোচনায় আনা সম্ভব হবে না। রাজ্য কেবল সঠিক ডাটার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ভারত তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তিস্তা ও ফেনী নদীর চুক্তি সই করার জন্য প্রস্তুত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে এটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের তালিকা থেকেও নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তা চুক্তি সই করার আশা পুনরায় সৃষ্টি হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান সম্পূর্ণ অনিশ্চিতই থেকে যায়।

তিস্তা চুক্তি কঠিন মনে হওয়ায় আস্থা সৃষ্টির জন্য চার পয়েন্ট পর্যালোচনার কথা বলেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। এ চার দফা হল, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় অভিন্ন ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here