আবারও সংখ্যালঘু হত্যা, জঙ্গিবাদ দমনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নিন

0
356

002107sompa-1আতঙ্ক বিস্তারের লক্ষ্যে জঙ্গিরা সফল হচ্ছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা আতঙ্কের পারদ ক্রমেই ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে আবার গতকাল পাবনায় সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সেই পারদকে আরো এক ধাপ উঠিয়ে দিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় সংখ্যালঘু হত্যা। এর আগে গত ৫ জুন নাটোরে খ্রিস্টান ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজকে এবং গত ৭ জুন ঝিনাইদহে হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাই সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে।

গত ১৮ মাসে সারা দেশে ৪৬টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় যেমন লেখক-বুদ্ধিজীবীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তেমনি হামলার শিকার হয়েছেন খ্রিস্টান, হিন্দু, শিয়া, আহমদিয়াসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও। হামলার শিকার হয়েছেন লালনভক্ত, পীরভক্ত, সাংস্কৃতিককর্মী, এমনকি বিদেশিরাও। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা মুখে যা-ই বলুন না কেন, সাধারণ মানুষ জঙ্গি দমনে পুলিশের ব্যর্থতাই বেশি করে দেখতে পাচ্ছে। প্রকৃত হামলাকারীরা খুব কমই ধরা পড়ছে। মদদদাতা, অর্থদাতা কিংবা পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেশি-বিদেশি অনেকের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

জঙ্গিবাদের কালো ছায়া আজ দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অনেক দেশে প্রতিদিন শ শ মানুষ জীবন দিচ্ছে। অনেক দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। আমেরিকা বা ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলোও জঙ্গি হামলার আশঙ্কামুক্ত নয়। সেসব দেশেও এরই মধ্যে বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গিবাদের উত্থান কিংবা গোপন হামলা ঠেকানো যে খুব সহজ কাজ নয়, তা তো প্যারিস হামলা কিংবা বেলজিয়ামের বিমানবন্দরে হামলা থেকেও কিছুটা অনুমান করা যায়। সেসব দেশের এত শক্তিশালী পুলিশ কিংবা গোয়েন্দারাও এসব হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। সে তুলনায় আমাদের পুলিশের সক্ষমতা কি বেশি? নিঃসন্দেহে নয়। এই সরল সত্যটি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। প্যারিসে বা বেলজিয়ামে হামলার পর আমরা দেখেছি, সরকারি বা বিরোধী দলে কোনো ভেদাভেদ না করে সবাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। আর আমরা কী করছি? পরস্পরকে দোষারোপ করে চলেছি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই জঙ্গিবাদের রাজনীতি করে না। আবার এটাও সত্য, জঙ্গিদের কেউ কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে। সরকার ও পুলিশের কাজ হলো প্রকৃত জঙ্গিদের খুঁজে বের করা, যারা নানাভাবে জঙ্গিদের সহায়তা করছে তথ্যপ্রমাণসহ তাদের বিচারের মুখোমুখি করা। কিন্তু জঙ্গিবাদের মতো একটি দেশবিনাশী বিষয় নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। একেকজনের একেক দল হতে পারে, কিন্তু দেশ সবার। আমরা মনে করি, দোষারোপের রাজনীতি বাদ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জঙ্গি দমনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নেওয়াটাই হবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ। আশা করি, সরকার সেভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here