আপিল আদালতেও ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

0
87

235143Trump_kalerkantho_picআন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় দেশের নাগরিকদের তার দেশে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, আপিল আদালতও তা স্থগিত রেখেছে। গত মার্চের মাঝামাঝি ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও হাওয়াইয়ের ফেডারেল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। হাওয়াইয়ের আদালতের স্থগিতাদেশ তুলতে তিন মাস পর আপিল আদালতে গিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু সান ফ্রান্সিসকো নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিল সোমবার আগের আদেশই বহাল রাখে। আপিল আদালত বলেছে, প্রেসিডেন্টের ওই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসী আইনের লঙ্ঘন।

আপিল আদালতের ওই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও একটি আইনি পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আপিল আদালতের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস বলেছেন, বিচারকদের সঙ্গে তিনি একমত হতে পারছেন না। তার দাবি, দেশকে নিরাপদ রাখতে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার মধ্যেই ওই আদেশ দিয়েছিলেন। বিবিসি লিখেছে, আপিল আদালতের ওই আদেশেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এ মাসের শুরুতেই নির্বাহী আদেশ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতের সিদ্ধান্ত বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে। সেখানেই এর চূড়ান্ত মীমাংসা হবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে প্রথমবার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। সেটি আদালতে স্থগিত হয়ে গেলে এক মাসের বেশি সময় পর মার্চের ৬ তারিখ ট্রাম্প যে সংশোধিত আদেশ জারি করেন তাতে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পাশাপাশি সব দেশের শরণার্থীর প্রবেশে ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সংশোধিত নিষেধাজ্ঞায় আগের তালিকা থেকে ইরাককে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হাওয়াই ও মেরিল্যান্ডের দুটি আদালত ওই নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত করে। গত ২৬ মে আপিল আদালত মেরিল্যান্ডের সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে। হাওয়াইয়ের আদালত আদেশ বহালের সিদ্ধান্ত দেয় সোমবার।

সান ফ্রান্সিসকোর নাইন্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিল হাওয়াইয়ের আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে বলছে, কী কারণে ওই ছয় দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হবে ট্রাম্পের আদেশে তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। সেই সঙ্গে শরণার্থীরা কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ক্ষতি করছে তাও বলা হয়নি। এমনকি প্রেসিডেন্ট হলেও অভিবাসন কখনই ওয়ান ম্যান শোর বিষয় নয়।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প সন্ত্রাসী হামলার হাত থেকে আমেরিকানদের রক্ষা করতে ওই নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বারবার বললেও সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো বড় হামলা হয়েছে, তার কোনোটিতেই ওই ছয় দেশের কোনো নাগরিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।