আটক থেকে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি

0
200

150232_135ঢাকা: প্রথমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ারহোসেন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরইধারাবাহিকতায় জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতারি
পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বিকেলেই মতিঝিলে দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা
হয়।

২০১৩ সালের ১৬ মে মীর কাসেম আলীন বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২৬ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৪ সালের ০২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার দায়ে আদালত
তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেম আলীর
আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার পক্ষে প্রাথমিক যুক্তিতর্ক
উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবীরা।

গত ৯, ১০, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ৬
জনকে হত্যার দায়ে তার ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মীর কাসেমের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে ২৪৪ পৃষ্ঠার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৬ জুন প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের
আপিল বিভাগ। গত ১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মীর কাসেম আলী। মোট
৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।

গত ২৮ আগস্ট মীর কাসেমের রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়। মীর কাসেমের পক্ষে রিভিউ শুনানিতে অংশ নেন
তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

৩০ আগস্ট সকালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম
আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর থাকে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে
প্রাণভিক্ষার সুযোগ।

মীর কাসেম আলী ২ আগস্ট কারা-কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। প্রাণভিক্ষার
বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে ফাঁসি কার্য্করের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

সে মোতাবেক মীর কাসেমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের শেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়। অবশেষে সরকারের নির্বাহী
আদেশে ৩ আগস্ট রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।