আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথে জিনপিং

0
55

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সময়সীমার ক্ষেত্রে পরপর দুই মেয়াদের যে সীমাবদ্ধতা দেশটির সংবিধানে রয়েছে, সেই ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। ধারাটি বাতিল হলে ২০২৩ সালের পরও প্রেসিডেন্ট থাকবেন শি জিনপিং।

ধারণা করা হচ্ছে জিনপিংকে আজীবন প্রেসিডেন্ট পদে রাখার জন্যই এমন প্রস্তাব তুলেছে কমিউনিস্ট পার্টি। তিনি ইতিমধ্যেই চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। গত বছর দলটি শি জিনপিংকে মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তার আদর্শকে পার্টির সংবিধানেও যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দলটিতে শি জিনপিংয়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া রোববার এ খবর জানায়।

চীনের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদে ১০ বছরের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এ সংক্রান্ত ধারাটি পরিবর্তন করার প্রস্তাব করেছে। তবে খবরে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। তবে শিগগিরই প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হবে বলেও খবরে জানানো হয়।

সোমবার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি বেইজিংয়ে এক বৈঠকে বসবে। সেখানে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তা অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হবে। আগামী ৫ মার্চ দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের পূর্ণ অধিবেশন শুরু হবে। এটি অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি দেশটির শাসন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

২০১২ সালে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে তার ক্ষমতা দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জিনপিং বর্তমানে দলের প্রধান মাও সেতুংয়ের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা।

২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমান ব্যবস্থায় ৬৪ বছর বয়সী এই নেতাকে ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। এর অনেক আগেই সংবিধানের ধারা পরিবর্তন করে তার ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর বন্দোবস্ত করছে তার দল। এ পরিবর্তন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তার পূর্বসূরি দুই প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন ও হু জিনতাও উভয়ই পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে চীন শাসনের ব্যাপারে নিজের যে আরও বড় উচ্চাকাক্সক্ষা রয়েছে সেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন জিনপিং।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here